18 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাগালাটাসারায় ১০-মানের ইয়ুভেন্তুসকে ৫-২ দিয়ে পরাজিত

গালাটাসারায় ১০-মানের ইয়ুভেন্তুসকে ৫-২ দিয়ে পরাজিত

ইস্তাম্বুলে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে‑অফের প্রথম লেগে গালাটাসারায় ১০-মানের ইয়ুভেন্তুসকে ৫-২ স্কোরে পরাজিত করেছে। ডাচ মিডফিল্ডার নোয়া ল্যাং দু’টি গোলের মাধ্যমে দলকে বড় সুবিধা এনে দেয়। ম্যাচটি উভয় দলে তীব্রতা ও নাটকীয় মুহূর্তে ভরপুর ছিল।

প্রথমার্ধে ১৫ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার গ্যাব্রিয়েল সারা বক্সের ভিতর থেকে বাম পা দিয়ে প্রথম গোল করেন। তবে ইয়ুভেন্তুসের ডাচ মিডফিল্ডার তেউন কোপমেইনার্স মাত্র এক মিনিট পরে সমান স্কোর করে, গালাটাসারায়ের গোলরক্ষক উগুরকান চাকির কেফ্রেন থুরামের হেডারকে পারিয়ে কোপমেইনার্সের শটকে রক্ষা করতে না পেরে।

কোপমেইনার্স ৩২ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে শট দিয়ে উপরের কোণে গলপোস্টের দিকে গুলি করেন, যা গালাটাসারায়ের জন্য একমাত্র গোল হয়ে থাকে। এই মুহূর্তে গালাটাসারায়ের আক্রমণ থেমে যায় এবং প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত ইয়ুভেন্তুস ২-১ লিডে থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধে গালাটাসারায়ের আক্রমণ পুনরায় তীব্রতা পায়। ৪৯ মিনিটে নোয়া ল্যাং পেনাল্টি এলাকার কাছাকাছি একটি ফ্রি বল থেকে শট মারেন এবং গোলের সমান করে। একই সময়ে ইয়ুভেন্তুসের কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার হুয়ান কাবাল দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে রেড কার্ড পান, যা দলের রক্ষণে বড় ধাক্কা দেয়।

সেই পরেই ৬০ মিনিটে গালাটাসারায়ের ডেভিনসন সানচেজ হেডার দিয়ে স্কোর বাড়িয়ে ৩-২ করে তোলেন। গালাটাসারায়ের কোচ ওকান বুরুকের দল দ্রুত গতি বজায় রাখে এবং সাচা বয় ৭৫ মিনিটে গোল করে পার্থক্য আরও বাড়িয়ে ৫-২ করে শেষ করে।

ইয়ুভেন্তুসের কোচ লুসিয়ানো স্পালেট্তি ম্যাচের পর প্রকাশ্যে বলেন, দলটি বহু ধাপ পিছিয়ে গেছে এবং প্রথমার্ধে খারাপ পারফরম্যান্সের ফলে পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রেড কার্ডের প্রভাব বড় এবং খেলোয়াড়রা পরিস্থিতির ঝুঁকি পুরোপুরি বুঝতে পারেনি।

স্পালেট্তি দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের অভাবই মূল কারণ। তিনি যোগ করেন, “আমরা প্রথমার্ধে দুর্বলভাবে শেষ করেছি, সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করেছি কিন্তু আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল।” এই মন্তব্যগুলো দলকে পুনর্গঠন করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

ইয়ুভেন্তুসের জন্য এই পরাজয় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরাজয়, যা ১৯৫৮ সালে ওয়িনার স্পোর্ট‑ক্লাবের কাছে ৭-০ হারের পরের সর্বোচ্চ পরাজয়। ঐ ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর থেকে ইয়ুভেন্তুসের ইউরোপীয় রেকর্ডে এই ম্যাচটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করেছে।

গালাটাসারায়ের গোলরক্ষক উগুরকান চাকি ম্যাচে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের রক্ষণে অবদান রাখেন, যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি গোলের পরোক্ষ কারণ হয়ে ওঠেন না। তার পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাসী রাখে এবং আক্রমণকে সমর্থন করে।

ইয়ুভেন্তুসের ত্রুটি প্রধানত রেড কার্ডের ফলে রক্ষার দুর্বলতা এবং মাঝখানে গড়ে ওঠা শৃঙ্খলাবিহীনতা। কোপমেইনার্সের দু’টি গোল সত্ত্বেও দলটি দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণমূলকভাবে পিছিয়ে যায় এবং গালাটাসারায়ের দ্রুত আক্রমণকে থামাতে পারে না।

গালাটাসারায়ের কোচ ওকান বুরুকের কৌশলগত পরিবর্তন, বিশেষ করে মাঝখানে উচ্চ চাপ আর দ্রুত পাসিং, ম্যাচের গতি পরিবর্তন করে। তার দলটি দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পাঁচটি গোলের মাধ্যমে বিজয় নিশ্চিত করে।

পরবর্তী ম্যাচে ইয়ুভেন্তুস টুরিনে ফিরে গালাটাসারায়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হবে। রেড কার্ডের প্রভাব এবং রক্ষণে দুর্বলতা দূর করতে দলটি নতুন কৌশল নিয়ে প্রস্তুত হওয়ার কথা। গালাটাসারায়ের জন্যও বাড়িতে জয় নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments