অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের পর শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দিতে আহ্বান জানালেন। তিনি নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে টিকটকসহ ছোট স্ক্রিনের বিনোদনকে ত্যাগ করে শিক্ষার দিকে মনোযোগ দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, যারা টিকটক করে পরের দিন পরীক্ষা দিয়ে পাস করে, তাদের আল্লাহর নামে পড়তে বসতে হবে এবং তাদের অজ্ঞতার প্রতি সমালোচনা করেন।
ইরফানের এই বার্তা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফেসবুকে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, শেয়ার সংখ্যা সাতশো‑এর বেশি পৌঁছায় এবং মন্তব্যের ঘরে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নেটিজেনদের মধ্যে একজন “তাহের রাব্বী” নামের ব্যবহারকারী পুরোনো দিনের শিক্ষাব্যবস্থা তুলনা করে মন্তব্য করেন, তিনি বলেন, “আবার সেই পুরোনো দিনের মতো এসএসসি, এইচএসসি পাস করলে এলাকাবাসী দেখতে আসবে।” অন্য এক ব্যবহারকারী শোয়েব তাহসিন জিজ্ঞেস করেন, “এখন যদি সবাই পড়তে বসে, তাহলে তোমাদের নাটক কে দেখবে?” এই প্রশ্নটি শিল্প ও শিক্ষার সমন্বয় নিয়ে আলোচনা উস্কে দেয়।
আরেকটি মন্তব্যে রেহনুমা উল্লেখ করেন, “সেই যুগের ফাইভ পাস এই যুগের মাস্টার্স পাসের সমান,” যা শিক্ষার মান ও প্রত্যাশার পরিবর্তনকে ইঙ্গিত করে। এই ধরনের মন্তব্যগুলো পোস্টের মূল বার্তাকে সমর্থন বা চ্যালেঞ্জের রূপে প্রকাশ করে, ফলে আলোচনার পরিসর বিস্তৃত হয়। ইরফানের পোস্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের টিকটক ও অন্যান্য ডিজিটাল বিনোদন থেকে দূরে সরে, পাঠ্যবই ও পাঠ্যক্রমের প্রতি মনোযোগী হওয়া, যাতে শিক্ষার মান উন্নত হয় এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে এই ধরনের সামাজিক মিডিয়া প্রচার প্রায়ই তরুণ প্রজন্মের মনোভাব পরিবর্তনে সহায়তা করে। ইরফান নিজে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা হওয়ায় তার কথার প্রভাব ব্যাপক, বিশেষ করে তার ভক্তরা তার পরামর্শকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে। পোস্টে ব্যবহৃত ভাষা সরল ও সরাসরি, যা শিক্ষার্থীদের কাছে সহজে পৌঁছায় এবং তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
বিভিন্ন মন্তব্যের মধ্যে দেখা যায়, কিছু তরুণ এখনও বিনোদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অন্যরা শিক্ষার গুরুত্বকে পুনর্বিবেচনা করছে। এই দ্বন্দ্বই বর্তমান সময়ের শিক্ষার চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন। সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত এই ধরনের বার্তা শিক্ষার্থীদের আচরণে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রাখে, তবে বাস্তবিক পরিবর্তন ঘটাতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও নীতি সমর্থন প্রয়োজন।
শিক্ষা সংক্রান্ত এই আলোচনার শেষে, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া যায়: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে স্ক্রিন টাইম সীমিত করে, নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যবই ও নোটে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এছাড়া, টিকটক বা অনুরূপ প্ল্যাটফর্মে ব্যয়িত সময়কে শিক্ষামূলক কন্টেন্টে রূপান্তর করা যেতে পারে, যাতে বিনোদন ও শিক্ষার মধ্যে সুষম সমন্বয় বজায় থাকে।
ইরফান সাজ্জাদের এই সামাজিক মিডিয়া পোস্ট শিক্ষার প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলেছে এবং তরুণদের মধ্যে আত্ম-পর্যালোচনার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে যদি আরও শিল্পী ও পাবলিক ফিগার এই ধরনের বার্তা শেয়ার করেন, তবে শিক্ষার মানোন্নয়নে সামাজিক চাপ বাড়তে পারে এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে পারে।
আপনার কি মনে হয়, ডিজিটাল বিনোদন ও শিক্ষার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়? এই প্রশ্নটি নিজে এবং আপনার পরিচিতদের সঙ্গে আলোচনা করে, শিক্ষার প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিবেচনা করুন।



