বারিসাল প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী জনতার দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ উভয়ের মধ্যে তীব্র বিরোধ প্রকাশ পায়। ফুয়াদ নতুন এক গণ-অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা উল্লেখ করে সতর্কবার্তা দেন, আর তারেক তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তায় মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।
ফুয়াদ, যিনি বরিশাল‑৩ (বাবুগঞ্জ‑মুলাদী) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই সম্মেলন আয়োজন করেন, তাতে ভোটের দিন ব্যালট ছিনতাই ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের ভূমিকা কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি আপনার দলের মধ্যে এমন নেতাকর্মী নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তবে আপনার পতন হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হবে।” এই মন্তব্যে তিনি নতুন এক গণ-অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নিতে বলেন।
তারেক রহমান ফেসবুকে ফুয়াদের এই বক্তব্যের প্রতি তীব্র বিরোধ প্রকাশ করেন। তিনি ফুয়াদকে “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারী” বলে অভিযুক্ত করে, রাস্তায় সরাসরি মোকাবিলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আর একটা গণ-অভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলছে ব্যারিস্টার ফুয়াদ। সেই গণ-অভ্যুত্থানে আমি ব্যারিস্টার ফুয়াদকে প্রতিপক্ষ হিসাবেই চাই।” তিনি ফুয়াদের চাঁদ‑তারার সঙ্গে লাল‑সবুজের লড়াই হবে বলে রূপক ব্যবহার করে তারেকের আদর্শিক লড়াইয়ের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
তারেকের পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফুয়াদ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছেন এবং শহীদদের নিয়ে উপহাস করছেন। তিনি হুঁশিয়ারী করে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত, আর মুখ ভেঙ্গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদের অসম্মানের জবাব যুক্তি‑তর্কে নয়, রাজপথে দিতে চাই।” এই বক্তব্যে তিনি রাস্তায় সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছা স্পষ্ট করেন, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
ফুয়াদ ও তারেকের এই পারস্পরিক চ্যালেঞ্জের পটভূমিতে রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভূমিকা। ফুয়াদ, যিনি বিএনপির সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ, তারেকের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “আপনার দলের মধ্যে যদি তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে আপনার পতন হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ রকম হবে।” তিনি নতুন এক গণ-অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নিতে বলার মাধ্যমে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র করেন।
বারিসাল‑৩ আসনের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ফুয়াদ নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তিনি ভোটের দিন ব্যালট ছিনতাই এবং কেন্দ্র দখলের ঘটনা উল্লেখ করে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই অভিযোগগুলো তারেকের রাস্তায় মোকাবিলার চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
তবে তারেকের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখিত “চাঁদ‑তারার সঙ্গে লাল‑সবুজের লড়াই” রূপকটি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার আদর্শিক দিককে তুলে ধরে। তিনি ফুয়াদের সঙ্গে লাল‑সবুজের (বিএনপি‑বিএল) লড়াইকে চাঁদ‑তারার (আওয়ামী লীগ‑বিএনপি) সঙ্গে তুলনা করে, যা দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্দেশ করে। এই রূপকটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয়, বরং তারেকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের একটি উপায়।
ফুয়াদের সতর্কবার্তা এবং তারেকের রাস্তায় মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ উভয়ই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। উভয় পক্ষই নিজেদের আদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করে তুলতে চেয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনী চক্রে ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে বরিশাল অঞ্চলে এই বিরোধ স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধিকে প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ফুয়াদের “গণ‑অভ্যুত্থান”ের ইঙ্গিত এবং তারেকের রাস্তায় মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান উভয়ই নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। উভয় পক্ষই নিজেদের সমর্থক গোষ্ঠীকে উস্কে দিতে এবং বিরোধী দলের দুর্বলতা প্রকাশ করতে চায়। এই ধরনের প্রকাশনা নির্বাচনী সময়ে দলীয় সংহতি ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অধিকন্তু, ফুয়াদের মন্তব্যে উল্লেখিত “নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদী” শব্দটি বিএনপির অভ্যন্তরে উত্থাপিত তীব্র মতবিরোধের ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলছেন, যদি এই নেতারা নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে তারেকের ভবিষ্যৎ আরও কঠিন হবে। এই রকম তীব্র ভাষা ব্যবহার করে উভয় দলই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে দৃঢ় করতে চায়।
এই ঘটনাগুলোর পরবর্তী ধাপ হিসেবে, উভয় দলই রাস্তায় সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। যদিও কোনো সরাসরি শারীরিক সংঘর্ষের রিপোর্ট নেই, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় পক্ষের উগ্র মন্তব্য ভবিষ্যতে প্রতিবাদ বা র্যালির সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। নিরাপত্তা দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন এই ধরনের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বারিসাল প্রেস ক্লাবের সম্মেলনে ফুয়াদ ও তারেকের পারস্পরিক চ্যালেঞ্জ দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। উভয় পক্ষই নিজেদের আদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করে তুলতে এবং সমর্থকদের উস্কে দিতে চায়। আসন্ন নির্বাচনী চক্রে এই বিরোধের প্রভাব কী হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



