দ্বিতীয় সরকার গঠনের শপথের দিন, তেল‑গ্যাস‑খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ‑বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রাক্তন সচিব আনু মুহাম্মদ ফেসবুকে দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের অস্বচ্ছ ও তাড়াহুড়া করে করা চুক্তিগুলো দেশের স্বার্থের বিপরীতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্ত ও বিচারের প্রয়োজন।
আনু মুহাম্মদ উল্লেখ করেন যে নির্বাচিত সরকারকে লক্ষ্য করে তিনি এবং তার দল পূর্বে সতর্কতা জানাতেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি গোপনীয়তা ও জনসম্মতির অবহেলা করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা অবৈধ। তিনি জোর দেন যে এমন চুক্তিগুলো দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের জানার অধিকার আছে যে কারা এই চুক্তিগুলোকে সম্ভব করেছে। বিশেষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন উপদেষ্টা ইউনুস এবং তার সহকারীকে বিদেশি কোম্পানির লবিস্ট বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের প্রতিনিধির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
মুহাম্মদ উল্লেখ করেন যে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, কেন এই দুইজনকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষে বসানো হয়েছে, যদিও তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান করা হচ্ছে।
আন্তর্বর্তী সরকারের এই চুক্তিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি অধীনতার চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যার মধ্যে তেল‑গ্যাস‑খনিজ সম্পদ, বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বন্দর উন্নয়নের শর্তাবলী অন্তর্ভুক্ত। আনু মুহাম্মদ দাবি করেন যে এসব চুক্তি স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্পন্ন হয়েছে, ফলে দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই চুক্তিগুলোকে রদ করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগের শর্তাবলী দেশের স্বায়ত্তশাসনকে সীমাবদ্ধ করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের চুক্তি রোধের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্ত ও বিচারের দাবি করেন।
আন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নতুন সরকারের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে এই বিষয়টি পর্যালোচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলোর বৈধতা ও স্বচ্ছতা যাচাই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, এই ধরনের অভিযোগ নতুন সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যদি তারা পূর্বের চুক্তিগুলোকে পুনর্বিবেচনা না করে। একই সঙ্গে, জনমতকে সন্তুষ্ট করতে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সরকারকে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করতে হবে।
আন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তিগুলোর ওপর তদন্তের ফলাফল যদি অপরাধমূলক প্রমাণ প্রকাশ করে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতে পারে। আনু মুহাম্মদ এই সম্ভাবনাকে তুলে ধরে বলেন, দেশত্যাগের সুযোগ দেওয়া কোনো ন্যায়সঙ্গত নয়; বরং বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দরকার।
এই বিতর্কের পরিণতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে সরকারী স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে জনসাধারণের প্রত্যাশা বাড়বে। যদি নতুন সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তবে এটি জনমতকে শান্ত করতে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।



