মায়ুমি ইয়োশিদার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য জাপানি ভাষার নাটক ‘আকাশি’ ইউরোপীয় চলচ্চিত্র বাজার (EFM) বার্লিনে প্রদর্শনের পর কানাডা ও জাপানে বিতরণ চুক্তি নিশ্চিত করেছে। টোকিও ভিত্তিক র্যাবিট হাউস জাপানের জন্য থিয়েটার মুক্তি পরিকল্পনা করছে, আর কানাডার স্বতন্ত্র বিতরণকারী কিনোস্মিথ পুরো কানাডিয়ান বাজারের অধিকার গ্রহণ করেছে।
‘আকাশি’ ১৪ ফেব্রুয়ারি বার্লিনের সিমেনাক্স ৯ থিয়েটারে EFM অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হয়, যেখানে বহু প্রজন্মের প্রেমের গল্পের মাধ্যমে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। এই স্ক্রিনিংয়ের পরই র্যাবিট হাউস এবং কিনোস্মিথ উভয়ই চলচ্চিত্রের জন্য অধিকার অর্জন করে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রথমবারের মতো ইয়োশিদার কাজকে তুলে ধরবে।
কিনোস্মিথের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মায়ুমি এবং তার দল একটি কোমল ও নস্টালজিক টোনে আধুনিক আবেগকে মিশিয়ে একটি অনন্য চলচ্চিত্র তৈরি করেছে, যা প্রথমবারের মতো পূর্ণদৈর্ঘ্য পরিচালকের জন্য বিরল সাফল্য। এই মন্তব্যগুলো চলচ্চিত্রের শিল্পগত মান এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উভয়ই তুলে ধরে।
‘আকাশি’র প্রধান চরিত্র কানা, যিনি ভ্যানকুভারে সংগ্রামী শিল্পী, দশ বছর বিদেশে কাটিয়ে টোকিওতে তার দাদীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য ফিরে আসে। দাদীর মৃত্যুর আগে প্রকাশিত গোপনীয়তা—দাদীর স্বামী অন্য কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিলেন—কানাকে তার নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত এবং পরিবারের ঐতিহ্য নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে।
টোকিওতে ফিরে এসে কানার পুরনো প্রেমী হিরোর সঙ্গে অপ্রত্যাশিত পুনর্মিলন ঘটে, যা তার অতীত ও বর্তমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে। এই দ্বন্দ্বের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি নারীর স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ এবং পারিবারিক প্রত্যাশার জটিলতা তুলে ধরে, যা বহু প্রজন্মের নারীর গল্পকে একত্রিত করে।
চলচ্চিত্রটি ভ্যানকুভার ও টোকিওতে শুট করা হয়েছে, যেখানে দু’শহরের ভিন্ন সংস্কৃতি ও দৃশ্যপটের মিশ্রণ গল্পের পটভূমি সমৃদ্ধ করে। ইয়োশিদা নিজেই ভ্যানকুভার ভিত্তিক, এবং তার অভিবাসী দৃষ্টিকোণ চলচ্চিত্রের বর্ণনায় স্বতন্ত্র স্বর যোগ করেছে।
র্যাবিট হাউসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘আকাশি’ জাপানে থিয়েটার মুক্তি পাবে, যেখানে জাপানি ভাষায় মূল সংলাপ বজায় রেখে স্থানীয় দর্শকদের কাছে পৌঁছানো হবে। একই সঙ্গে, কিনোস্মিথ কানাডার বিভিন্ন শহরে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের জন্য বিস্তৃত বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে।
এই দুই দেশের বিতরণ চুক্তি ‘আকাশি’কে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ও বাজারে আরও দৃশ্যমানতা দেবে, এবং মায়ুমি ইয়োশিদার ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। চলচ্চিত্রের সাফল্য নতুন প্রজন্মের স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বরকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
‘আকাশি’র গল্প, শুটিং স্থান এবং বিতরণ পরিকল্পনা সবই একত্রে একটি সমন্বিত কৌশল গঠন করে, যা চলচ্চিত্রের শিল্পিক গুণমানকে বাণিজ্যিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বেশি স্বতন্ত্র চলচ্চিত্রকে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
চলচ্চিত্রের মুক্তি তার সৃষ্টিকর্তা ও বিতরণকারীদের জন্য নতুন সুযোগের সূচনা করবে, এবং ভ্যানকুভার ও টোকিওর সাংস্কৃতিক সংযোগকে আরও মজবুত করবে। ‘আকাশি’ এখনো থিয়েটার স্ক্রিনে না আসলেও, ইতিমধ্যে উভয় দেশে তার প্রত্যাশিত দর্শকগণ অপেক্ষা করছেন।



