লস এঞ্জেলেসের কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে চলমান সামাজিক মিডিয়া আসক্তি মামলায় মেটা’র অভ্যন্তরীণ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি দেখিয়েছে যে পিতামাতা যে সময়সীমা ও অ্যাক্সেস সীমা আরোপ করেন, তা কিশোর-কিশোরীদের অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে তেমন প্রভাব ফেলে না।
এই গবেষণার নাম Project MYST এবং এটি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়েছে। Project MYST এর পূর্ণরূপ হল Meta and Youth Social Emotional Trends survey, যা তরুণ ব্যবহারকারীদের সামাজিক-আবেগিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করে।
গবেষণার প্রধান ফলাফল অনুযায়ী, পিতামাতার তদারকি, সময় সীমা বা গৃহস্থালির নিয়মের সঙ্গে টিনদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সচেতনতার মধ্যে খুব কম সংযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, যেসব কিশোর-কিশোরী কঠিন জীবনের ঘটনা, যেমন পারিবারিক সমস্যার মুখোমুখি হয়, তারা স্ব-নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে অতিরিক্ত ব্যবহার করতে প্রবণতা দেখায়।
এই তথ্যগুলো লস এঞ্জেলেসের আদালতে চলমান মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। মামলাটি ‘KGM’ বা প্রথম নাম ‘ক্যালি’ নামে পরিচিত এক কিশোরীর পক্ষ থেকে দায়ের করা হয়েছে, যিনি এবং তার মা সামাজিক মিডিয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযোগের মূল বিষয় হল, মেটা, ইউটিউব, ByteDance (টিকটক) এবং Snap ইত্যাদি কোম্পানির পণ্যগুলো আসক্তিকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ, যা কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, দেহবিষয়ক বিকৃতি, খাবারজনিত ব্যাধি, আত্মহত্যার চিন্তা এবং আত্মহত্যা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।
মামলায় মেটা, ইউটিউব, ByteDance এবং Snap-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে; তবে Snap এবং ByteDance মামলার শুরুর আগে সমঝোতা করে দাবি থেকে বেরিয়ে এসেছে। বর্তমানে জুরি ট্রায়াল লস এঞ্জেলেসে চলছে এবং এর ফলাফল শিল্পের নীতি ও নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্যালির আইনজীবী মার্ক ল্যানিয়ার মেটা’র অভ্যন্তরীণ গবেষণার ফলাফল আদালতে তুলে ধরেছেন, যেখানে মেটা জানত যে পিতামাতার নিয়ন্ত্রণের প্রভাব সীমিত, তবু তা জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। ল্যানিয়ার দাবি করেন, এই গবেষণা কোম্পানির জ্ঞাত অবহেলা প্রমাণ করে।
Project MYST গবেষণায় শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পারিবারিক পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণার অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বয়সের তরুণ, যারা দৈনন্দিনভাবে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে।
গবেষণার ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখায় যে পিতামাতার সময়সীমা, অ্যাপের ব্যবহার সীমাবদ্ধতা বা গৃহে নির্ধারিত নিয়মগুলো টিনদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সচেতনতা বাড়াতে যথেষ্ট নয়। যদিও কিছু পরিবারে এসব নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করা হয়, তবু ব্যবহারকারীর অভ্যন্তরীণ প্রেরণা ও স্ট্রেসের মাত্রা বেশি প্রভাবশালী।
এই ফলাফলগুলো প্রযুক্তি শিল্পের জন্য সতর্কতা স্বরূপ। যদি পিতামাতার তদারকি কার্যকর না হয়, তবে কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য স্বয়ংক্রিয় সতর্কতা, ব্যবহার সীমা এবং মানসিক সহায়তা ফিচার উন্নয়ন জরুরি হতে পারে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও এই গবেষণার আলোকে নতুন নীতি প্রণয়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের তরুণ ব্যবহারকারীর উপর প্রভাব নিয়ে চলমান আলোচনায় এই তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
মেটা’র গবেষণার প্রকাশ এবং ক্যালি মামলার অগ্রগতি উভয়ই সামাজিক মিডিয়া নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি দায়িত্বশীলতা বাড়াতে এবং পিতামাতার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োগে উৎসাহিত করা হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, লস এঞ্জেলেসের এই মামলায় মেটা’র অভ্যন্তরীণ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ পেয়ে সামাজিক মিডিয়া শিল্পের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা ঘটেছে। পিতামাতার তদারকি সীমিত কার্যকারিতা এবং স্ট্রেসফুল জীবনের ঘটনা ব্যবহারকারীর আচরণে বড় প্রভাব ফেলে, তা স্বীকার করে শিল্পকে আরও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে।



