অ্যাঞ্জেলা বাসেট ৯ম বার্ষিক ABFF Honors অনুষ্ঠানে ‘এক্সেলেন্স ইন দ্য আর্টস’ পুরস্কার গ্রহণ করেন। এই অনুষ্ঠানটি সোমবার রাতের প্রোগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি পুরস্কার গ্রহণের সময় শিল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিশদ মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের শুরুতে বাসেট উল্লেখ করেন, অন্তর্ভুক্তি ও স্বীকৃতির ভাষা এখন প্রশ্নের মুখে। তিনি বলেন, এই শব্দগুলো একসময় আশার প্রতীক ছিল, তবে এখন সেগুলো এড়িয়ে চলা হয়। এই পরিবর্তন বাস্তব জীবনের ক্যারিয়ার ও স্বপ্নকে প্রভাবিত করছে।
তিনি আরও জানান, বিনোদন শিল্পের রূপান্তর গতি বাড়িয়ে চলেছে। প্রযুক্তি দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে, তবে জ্ঞানগত দিক থেকে তা পিছিয়ে আছে। ব্যবসায়িক মডেলগুলো ক্রমাগত পরিবর্তনশীল, যা শিল্পের ভিত্তি নাড়াচাড়া করছে।
কাহিনীর গঠনেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গল্পগুলোকে সংক্ষিপ্ত, সমতল এবং কখনো কখনো আত্মা হারিয়ে যাওয়া রূপে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা দক্ষতা ও অগ্রগতির নামে করা হয়। এই প্রবণতা সৃষ্টিকর্তাদের সৃজনশীল স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে।
এমন সময়ে বাসেট প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতে কৃষ্ণাঙ্গ স্রষ্টাদের স্থান কী হবে? কল্পনা, অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার কার হাতে থাকবে? তিনি এই প্রশ্নগুলোকে শিল্পের অন্তর্ভুক্তি নীতির মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
বক্তব্যের মাঝামাঝি তিনি নিজের ক্যারিয়ারের সূচনা সম্পর্কে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যখন তিনি এই শিল্পে প্রবেশ করেন, তখন খুব কম উদাহরণ ছিল যা দেখাতো যে একটি কৃষ্ণাঙ্গ নারী স্ক্রিনে পূর্ণ, জটিল ও টেকসই জীবনযাপন করতে পারে। ক্যামেরার পিছনের ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা ততটাই সীমিত ছিল।
তবু, তিনি বলেন, সম্প্রদায়ের সমর্থনই তাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। সহকর্মীদের সত্যিকারের কথাবার্তা, দর্শকদের উপস্থিতি এবং অবিচল বিশ্বাস যে তাদের গল্পগুলো ট্রেন্ড নয়, সত্য—এগুলোই তার চালিকাশক্তি ছিল।
এই সমর্থন তাকে আশা জোগায় এবং বাধা অতিক্রমের প্রেরণা দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, যারা পথ তৈরি করে দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি নিজের পথ চালিয়ে গেছেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি দর্শকদের তালি পেয়ে থেমে যান। তালি ও উল্লাসের মাঝে তিনি আবার জোর দিয়ে বলেন, শিল্পের শীর্ষে থাকা ব্যক্তিরা আমাদের ওপর অতিরিক্ত লক্ষ্য স্থাপন করে। এই লক্ষ্যগুলো প্রায়শই ক্ষমতার উচ্চ স্তরে থাকা লোকদের দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ধারিত হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডি.ই.আই. (ডাইভার্সিটি, ইকুইটি, ইনক্লুশন) প্রচেষ্টার হ্রাস শিল্পের গঠনকে প্রভাবিত করছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা না করলে সৃজনশীলতা ক্ষয়প্রাপ্ত হবে।
বিনোদন ক্ষেত্রের দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যবসায়িক মডেলগুলোকে তিনি সতর্ক করেন, যে সেগুলো শিল্পের মূল মানকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তিনি দাবি করেন, শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনে যারা সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তি বজায় রাখবে, তারা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করবে।
বক্তব্যের মাঝামাঝি তিনি আবারও সম্প্রদায়ের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যারা আগে থেকে পথ তৈরি করে রেখেছেন, তাদের সত্যিকারের কথাবার্তা এবং দর্শকদের অবিচল উপস্থিতি শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছে।
অ্যাঞ্জেলা বাসেটের এই বক্তব্য শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। তিনি শিল্পের সকল অংশীদারকে আহ্বান জানান, যাতে প্রযুক্তি, বাণিজ্যিক চাপ এবং সামাজিক পরিবর্তনের মাঝেও সৃজনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তি বজায় থাকে।
এই অনুষ্ঠানটি শিল্পের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের একত্রিত করেছে এবং বাসেটের মতামতকে কেন্দ্র করে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে। তার বক্তব্যের পর দর্শকরা দীর্ঘ সময়ের জন্য তালি দিয়ে সম্মতি প্রকাশ করেছে।
অবশেষে বাসেট উল্লেখ করেন, শিল্পের শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের দায়িত্ব হল সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে সব রঙের স্রষ্টা তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে শিল্পের ভাষা পুনরায় পুনর্গঠন হবে, যা সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তি ও সৃজনশীলতা প্রতিফলিত করবে।
এই পুরস্কার গ্রহণের মাধ্যমে বাসেটের ক্যারিয়ারকে নতুন এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি শিল্পের পরিবর্তনশীল গতিপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার বক্তব্য ভবিষ্যতে শিল্পের নীতি ও দিকনির্দেশনা গঠনে প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।



