21 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধএসেক্স পুলিশ স্ট্যানস্টেডের বেসরকারি ফ্লাইট তদন্তে তথ্য বিশ্লেষণ করছে

এসেক্স পুলিশ স্ট্যানস্টেডের বেসরকারি ফ্লাইট তদন্তে তথ্য বিশ্লেষণ করছে

এসেক্স পুলিশ স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে বেসরকারি উড়ান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের পর্যালোচনা শুরু করেছে। এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের লক্ষ্য হল এপস্টেইন সম্পর্কিত সম্ভাব্য মানব পাচার কার্যক্রমের প্রমাণ অনুসন্ধান।

ব্রিটিশ মিডিয়ার সম্প্রতি প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলগুলোতে যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরে বহু গোপনীয় ফ্লাইটের রেকর্ড দেখা গেছে। ফাইলগুলোতে ১৯৯০-এর দশক থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মোট ৮৭টি ফ্লাইটের তথ্য উল্লেখ রয়েছে, যেগুলো এপস্টেইন ও তার সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, পুলিশকে এপস্টেইন ভিকটিমদের সম্ভাব্য পাচার রুট পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি। তিনি যুক্তি দেন, যদি উড়ানগুলো সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা হয় তবে পাচারের প্রকৃত মাত্রা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

বিবিসি পূর্বে পরিচালিত তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, এপস্টেইন সম্পর্কিত ফ্লাইটের বেশিরভাগই বেসরকারি বিমান থেকে পরিচালিত হয়েছে এবং সেগুলো যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবতরণ বা প্রস্থান করেছে। এই ফ্লাইটগুলোতে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে তিনজন ব্রিটিশ নারীও রয়েছে, যাদের মানব পাচারের সন্দেহ রয়েছে।

স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দর পূর্বে জানিয়েছে যে, বেসরকারি বিমানগুলো সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র টার্মিনাল ব্যবহার করে এবং বিমানবন্দর কোনোভাবে যাত্রীদের ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে না। এ ধরনের উড়ানগুলোতে যাত্রী তালিকা বা চেক-ইন প্রক্রিয়ার কোনো তথ্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায় না।

এসেক্স পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগের এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের পর স্ট্যানস্টেডের বেসরকারি উড়ান সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করছি।” তিনি উল্লেখ করেন, এই তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অপরাধমূলক কার্যকলাপের দিকে নজর দেওয়া হবে।

ডিসেম্বরে বিবিসি প্রকাশ করেছে যে, তিনজন ব্রিটিশ নারী, যাদের মানব পাচারের অভিযোগ রয়েছে, এপস্টেইন সম্পর্কিত উড়ান রেকর্ডে দেখা যায়। এই রেকর্ডগুলোতে তাদের নাম এবং উড়ানের সময়সূচি উভয়ই উল্লেখ রয়েছে, যা তদন্তের নতুন দিক উন্মোচন করে।

এপস্টেইন ভিকটিমদের প্রতিনিধিত্বকারী যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা এই বিষয়টি নিয়ে আশ্চর্য প্রকাশ করেছেন, কারণ যুক্তরাজ্যে এপস্টেইন সংক্রান্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো শুরু হয়নি। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই ফাঁকটি দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।

গর্ডন ব্রাউন আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, যদি উড়ানগুলো সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা হয় তবে পাচারের প্রকৃত পরিমাণ স্পষ্ট হবে। তিনি উল্লেখ করেন, স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরই সেই স্থানগুলোর একটি, যেখানে নারীরা এক এপস্টেইন বিমানের থেকে অন্য বিমানে স্থানান্তরিত হয়েছিল।

স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দর পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, বেসরকারি উড়ানগুলো স্বতন্ত্র টার্মিনাল থেকে পরিচালিত হয় এবং বিমানবন্দর কোনোভাবে যাত্রীদের তথ্য জানে না। এ ধরনের উড়ানের জন্য বিমানবন্দর কোনো সেবা প্রদান করে না, ফলে তাদের কাছে যাত্রী তালিকা বা চেক-ইন রেকর্ডের কোনো প্রবেশাধিকার নেই।

জাতীয় পুলিশ প্রধানদের কাউন্সিল (NPCC) একটি নতুন জাতীয় দল গঠন করেছে, যা এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন পুলিশ বিভাগকে সমর্থন দেবে। এই দলটি অভিযোগের মূল্যায়ন, তথ্য শেয়ারিং এবং সম্ভাব্য তদন্তের পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করবে।

থেমস ভ্যালি পুলিশও বিবিসি রিপোর্টের পর এপস্টেইন সংক্রান্ত অভিযোগগুলো মূল্যায়ন করছে। তারা স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক কার্যকলাপের দিকে নজর দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ করেছে।

বর্তমানে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সীমা প্রকাশিত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একসাথে কাজ করে দ্রুত ফলাফল বের করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এপস্টেইন সংক্রান্ত ফাইলের প্রকাশের পর থেকে যুক্তরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এই বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments