Climactic, শুরুর পর্যায়ের ভেঞ্চার ফার্ম, সম্প্রতি একটি নতুন হাইব্রিড ফান্ড চালু করেছে। এই ফান্ডের নাম Material Scale এবং এটি মূলত পদার্থ‑ভিত্তিক স্টার্ট‑আপগুলোকে উৎপাদন‑স্কেল‑আপের আর্থিক বাধা অতিক্রমে সহায়তা করার জন্য গঠন করা হয়েছে। ফান্ডটি ঋণ‑ইকুইটি মিশ্রণ ব্যবহার করে, ফলে স্টার্ট‑আপের শেয়ার‑হিস্সা কমে এবং তহবিলের ব্যবহারিকতা বৃদ্ধি পায়।
স্টার্ট‑আপের জন্য ‘ভ্যালি অফ ডেথ’ শব্দটি প্রায়শই ব্যবহৃত হয়, যা প্রোটোটাইপ তৈরি ও বাজারে প্রমাণিত পণ্য থাকা সত্ত্বেও বিক্রয় ও উৎপাদন বাড়াতে না পারার কারণে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নির্দেশ করে। বিশেষ করে শারীরিক পণ্য তৈরীকারী কোম্পানিগুলো এই পর্যায়ে বেশি ভোগে, কারণ তাদেরকে বড় পরিমাণে কাঁচামাল ও উৎপাদন সুবিধা নিশ্চিত করতে হয়, অথচ গ্রাহকের অঙ্গীকার না থাকলে বিনিয়োগের রিটার্ন অনিশ্চিত থাকে।
সফটওয়্যার স্টার্ট‑আপের তুলনায় এই সমস্যার তীব্রতা বেশি। সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে নেতিবাচক মার্জিনে বিক্রি করতে পারে, যেমন উবার ও লিফটের শুরুর দিনগুলোতে দেখা গিয়েছিল। ক্লাউড সেবা ব্যবহার করে তারা দ্রুত স্কেল‑আপ করতে পারে, আর তাদের পণ্য ডিজিটাল হওয়ায় উৎপাদন‑খরচ তুলনামূলকভাবে কম। তবে পদার্থ‑ভিত্তিক স্টার্ট‑আপগুলোকে একই রকম নমনীয়তা নেই; তাদেরকে শারীরিক উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে বড় মূলধন ও নির্ভরযোগ্য ক্রেতা দরকার।
Climactic‑এর সহ‑প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং পার্টনার জশ ফেলসার এই বৈষম্যকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে, একই সময়ে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোকে বাজারে প্রবেশের জন্য কোনো বাধা দেয়া হয় না, অথচ নতুন উপাদান তৈরীকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তৎক্ষণাৎ বড় অর্ডার নিশ্চিত করতে হয়। এই প্রেক্ষাপটে Material Scale ফান্ডের ধারণা গড়ে ওঠে, যেখানে ক্রেতা এবং স্টার্ট‑আপের মধ্যে সরাসরি আর্থিক সংযোগ স্থাপন করা হয়।
ফান্ডের কাজের পদ্ধতি সহজ: সম্ভাব্য বড় ক্রেতা বাজারমূল্যে উপাদানের ক্রয়মূল্য অগ্রিম প্রদান করে, আর ফান্ডটি সেই অগ্রিমের এবং প্রকৃত উৎপাদন খরচের মধ্যে পার্থক্য পূরণ করে। পার্থক্যটি ঋণ ও ওয়ারেন্টের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়, ফলে স্টার্ট‑আপের শেয়ার‑হিস্সা কমে এবং তহবিলের ব্যবহারিকতা বাড়ে। ফেলসার উল্লেখ করেন, এই মডেলটি “মিনিমালি ডিলিউটিভ” অর্থাৎ শেয়ার‑হ্রাস কম রাখে।
Material Scale প্রথম পর্যায়ে পরিবেশ‑সচেতন পোশাক শিল্পের স্টার্ট‑আপগুলোকে লক্ষ্য করে। এই সেক্টরে ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক‑সুবিধাযুক্ত পণ্য রয়েছে, তবে বৃহৎ পরিমাণে উৎপাদনের জন্য গ্রাহকের অঙ্গীকারের অভাব রয়েছে। ফান্ডের মাধ্যমে ক্রেতা অগ্রিম অর্থ প্রদান করলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত স্কেল‑আপ করতে পারে, আর ক্রেতা ভবিষ্যতে সস্তা ও টেকসই উপাদান পেতে পারে।
এই মডেলটি বাজারে নতুন ধরনের আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে। স্টার্ট‑আপের জন্য বড় অর্ডার নিশ্চিত হওয়া মানে তহবিল সংগ্রহের ঝুঁকি কমে, আর বিনিয়োগকারীর জন্য ঋণ ও ওয়ারেন্টের সমন্বয় ঝুঁকি ভাগ করে দেয়। ফলে উভয় পক্ষই কম ঝুঁকিতে উচ্চ সম্ভাব্য রিটার্নের সুযোগ পায়।
পরিবেশ‑সচেতন উপাদানের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে Material Scale‑এর প্রভাবও বাড়বে বলে আশা করা যায়। বড় পোশাক ব্র্যান্ডগুলো টেকসই উপাদান ব্যবহার করতে চায়, তবে সরবরাহের অনিশ্চয়তা তাদের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করে। ফান্ডের মাধ্যমে এই অনিশ্চয়তা কমে, ফলে টেকসই ফ্যাশনের বাজার দ্রুত প্রসারিত হতে পারে।
তবে কিছু ঝুঁকি অবশ্যম্ভাবী। ফান্ডের সাফল্য নির্ভর করে ক্রেতার অগ্রিম অর্ডারের পরিমাণ ও সময়মতো পেমেন্টের উপর। বাজারমূল্যের ওঠানামা হলে ঋণ‑ভিত্তিক অংশের রিটার্নে প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া স্টার্ট‑আপের উৎপাদন ক্ষমতা ও গুণগত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে ক্রেতা অর্ডার বাতিল করতে পারে, যা ফান্ডের আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
দীর্ঘমেয়াদে Material Scale‑এর মডেলটি অন্যান্য সেক্টরে সম্প্রসারিত হতে পারে। যদি ফান্ডের প্রথম রাউন্ড সফল হয়, তবে ক্লাইমেট‑টেকের বাইরে, যেমন নির্মাণ‑সামগ্রী বা জৈব‑কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরণের হাইব্রিড ফান্ড গঠন করা সম্ভব। এভাবে শারীরিক পণ্য‑ভিত্তিক স্টার্ট‑আপের জন্য আর্থিক পরিবেশে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করা যেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, Climactic‑এর Material Scale ফান্ড শারীরিক উপাদান‑ভিত্তিক স্টার্ট‑আপের জন্য তহবিলের ঘাটতি দূর করার একটি নতুন পদ্ধতি উপস্থাপন করেছে। ঋণ‑ইকুইটি মিশ্রণ, অগ্রিম ক্রেতা অঙ্গীকার এবং কম ডিলিউশন নিশ্চিত করে, ফান্ডটি ‘ভ্যালি অফ ডেথ’ অতিক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সেতু গড়ে তুলতে চায়। ভবিষ্যতে এই মডেলটি টেকসই শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও বাজারের অস্থিরতা ও উৎপাদন‑ঝুঁকি সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা দরকার।



