উত্তরা উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ছয়তলা এক ভবনের বাসায় গৃহকর্মী চেতনানাশক ব্যবহার করে জিনিসপত্র লুটের পর এক নারী অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছায় এবং চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময়ে তার স্বামী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়।
মৃত নারী ছিলেন ৬২ বছর বয়সী আয়শা আক্তার, আর তার স্বামী ৬৮ বছর বয়সী আনোয়ার হোসেন। দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় একা বাস করতেন, সঙ্গে একটি ছোট ছেলে থাকত।
রাত ৮:০০ টার কাছাকাছি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল এলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাসার দরজা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়, এবং কিছু মূল্যবান সামগ্রী নিখোঁজ। তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু হয়।
প্রাথমিক তদন্তে গৃহকর্মীকে সন্দেহের মূল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যিনি দুদিন আগে বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছিলেন। গৃহকর্মীর নাম মারুফা, তবে তার কোনো পরিচয়পত্র, ফোন নম্বর বা আনুষ্ঠানিক রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি কাজী মো. রফিক আহমেদ জানিয়েছেন, “দুদিন আগে গৃহকর্মীকে কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়। তিনি খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে বাসার মালামাল নিয়ে গেছেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “গৃহকর্মীর কোনো আইডি না থাকায় তার সনাক্তকরণ কঠিন, তবে সন্দেহভাজনকে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।”
দম্পতি যে বাসায় থাকতেন, তা ১৮ নম্বর রোডের ছয়তলা একটি ভবনের ছোট ফ্ল্যাট। দুই দিন আগে তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে মারুফা নামে গৃহকর্মীকে নিয়োগ করা হয়, এবং সেই সময়ে দম্পতি বাড়িতে একা ছিলেন, কারণ তাদের সন্তান বাইরে ঘুরতে গিয়েছিল।
গৃহকর্মীর পরিচয় সম্পর্কে জানার জন্য ওসি রফিক আহমেদ বলেন, “কোনো সরকারী আইডি, ফোন নম্বর বা ঠিকানা রেকর্ড নেই। তিনি রাস্তা থেকে ডেকে এনে কাজ করছিলেন, যা গৃহপরিচারিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি।”
ঢাকার আদালত গৃহপরিচারিকা নিয়োগের সময় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। আদালত উল্লেখ করেছে যে, গৃহকর্মীর পটভূমি যাচাই না করলে অনিচ্ছাকৃত অপরাধের ঝুঁকি বাড়ে।
এ বিষয়ে আদালতের একটি পূর্ববর্তী রায়ের উল্লেখ করা হয়, যেখানে ধানমন্ডি এলাকার আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতি হত্যার মামলায় বিচারক তাওহিদা আক্তার গৃহপরিচারিকা নিয়োগে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই মামলায় গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদা দায়ী হয়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন, আর অন্য সন্দেহভাজন বাচ্চু মিয়া রিলিজ করা হয়েছিল।
পুলিশ বর্তমানে মারুফা নামের গৃহকর্মীকে অনুসন্ধান করছে। তার অবস্থান অজানা থাকলেও, তদন্তকারীরা তার সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল ও পরিচিত লোকজনের তালিকা তৈরি করে অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে।
অধিক তদন্তের পর গৃহকর্মীর অপরাধের প্রকৃতি, চেতনানাশকের ধরন এবং লুটের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে, দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।
এই ঘটনার পর গৃহপরিচারিকা নিয়োগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর আহ্বান বাড়ছে, এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গৃহকর্মীর পটভূমি যাচাই, আইডি সংগ্রহ এবং রেফারেন্স চেকের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।



