21 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জেনেভা আলোচনায় মূল নীতিমালা নিয়ে সমঝোতা দাবি

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জেনেভা আলোচনায় মূল নীতিমালা নিয়ে সমঝোতা দাবি

ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জেনেভা শহরে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনার পরে মূল “নির্দেশক নীতিমালা” নিয়ে পারস্পরিক সমঝোতা অর্জনের দাবি জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উল্লেখ করেছেন যে, যদিও মৌলিক নীতিতে ঐক্যমত গড়ে উঠেছে, তবে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য এখনও কাজ বাকি আছে। এই বিবৃতি জেনেভা শহরের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর প্রকাশিত হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, ফলে ইরানের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে দু’দেশের মধ্যে আলোচনার প্রকৃত অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্টতা অনুপস্থিত।

ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাদর আলবুসাইদি, যিনি মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছেন, উল্লেখ করেন যে, আলোচনায় উভয় পক্ষের সাধারণ লক্ষ্য এবং প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি এটিকে “সুবিন্যস্ত অগ্রগতি” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য ইতিবাচক সূচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই বৈঠকটি পূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি এবং দেশের অভ্যন্তরে বিরোধী প্রতিবাদে কঠোর দমন নীতি নিয়ে গৃহীত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে ইরানকে চুক্তি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং ইরানের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে অগ্রসর হওয়ার সন্দেহে রয়েছে। ইরান এই অভিযোগকে সর্বদা অস্বীকার করে আসছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করে।

মঙ্গলবারের বৈঠকের আগে, ইরান জেনেভা শহরের ওমানের দূতাবাসের বাসভবনে ঘোষণা করে যে, তারা পারমাণবিক প্রোগ্রাম এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উত্তোলনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছুক। ইরান জোর দিয়ে বলেছে যে, পারমাণবিক ক্ষেত্রের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নিষেধাজ্ঞা হ্রাসই আলোচনার মূল বিষয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনার তালিকায় রয়েছে। ওয়াশিংটন পূর্বে এই বিষয়গুলোকে আলোচনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে জেনেভা বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কোন বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনাকে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে উল্লেখ করে, নিজেকে পরোক্ষভাবে যুক্ত রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি ইরানকে এইবার আলোচনায় অংশ নিতে প্রেরণা পেয়েছে বলে ধারণা প্রকাশ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ট্রাম্পের মতে, ইরান চুক্তি না করলে যে পরিণতি ভোগ করবে তা তারা ইতিমধ্যে জানে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীষ্মে ইরানের পারমাণবিক সুবিধায় বোমা হামলার কথা স্মরণ করে বলেন, “যদি আমরা চুক্তি করতে পারতাম, তবে B-2 স্টেলথ বোম্বার পাঠাতে হতো না।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইরান এখন আরও যুক্তিসঙ্গত অবস্থানে থাকবে।

এই মন্তব্যের পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক গঠন ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত চাপের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জেনেভা আলোচনায় মৌলিক নীতিমালা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে ইরান দাবি করলেও, চূড়ান্ত চুক্তি এবং আলোচনার পূর্ণ পরিধি এখনও অনিশ্চিত। ওমানের মধ্যস্থতা, মার্কিন সামরিক হুমকি এবং পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়ক দ্বিমতগুলো ভবিষ্যৎ আলোচনার দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments