লস এঞ্জেলেসের শীর্ষ কাস্টিং ডিরেক্টর ফ্রান্সিন মেইস্লার, অ্যারন সর্কিনের নতুন সিক্যুয়েল ‘দ্য সোশ্যাল রেকনিং’‑এর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ওয়ুনমি মোসাকুকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেছেন। মেইস্লার ইতিমধ্যে ‘সিনার্স’ ছবিতে মোসাকুকে প্রধান ভূমিকায় বসিয়েছিলেন, যা প্রকাশের পর দ্রুত বক্স অফিসে সাফল্য অর্জন করে এবং অস্কার নোমিনেশনের শীর্ষে উঠে। এই কাস্টিং সিদ্ধান্তটি প্রথমবারের মতো কাস্টিং বিভাগে অস্কার যোগদানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ফ্রান্সিন মেইস্লার হোলিউডের সবচেয়ে সম্মানিত পরিচালকদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করেন। ডেনিস ভিলেনুভ, আলেজান্ড্রো গনজালেজ ইন্যারিতু, গ্রীটা গারউইগ, ব্যারি জেনকিন্স, মাইকেল মান, অ্যাডাম ম্যাককেই, জেমস এল. ব্রুকস, স্টিভ ম্যাককুইন এবং রায়ান কুগলারসহ বহু পুরস্কারপ্রাপ্ত নামের সঙ্গে তার সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। এই নেটওয়ার্কের কারণে তিনি শিল্পের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন কাস্টিং ট্যালেন্ট হিসেবে স্বীকৃত।
‘সিনার্স’ ছবিতে মোসাকুর পারফরম্যান্সকে মেইস্লার অত্যন্ত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আমি তার কাজের ভক্ত, তাই তাকে ‘দ্য সোশ্যাল রেকনিং’‑এ নিয়ে আসতে চাই।” এই ইচ্ছা প্রকাশের পর, মেইস্লার সরাসরি সর্কিনকে টেক্সট করে জানিয়ে দেন যে তিনি ছবিটি রাতের মধ্যে দেখবেন। সর্কিন রাতের শেষের দিকে ছবিটি শেষ করে, এবং পরের দিন মেইস্লার আবার জোর দিয়ে বলেন, “ওয়ুনমি এই ভূমিকায় অবশ্যই দরকার।”
সর্কিনের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, “ফ্রান্সিন, আমি কি সরাসরি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারি?” মেইস্লার উত্তর দেন, “যদি দরকার হয়।” দুজনই লস এঞ্জেলেসের সান ভিসেন্টে বাংগালোস রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় মোসাকুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। খাবার শেষের দিকে সর্কিন সরাসরি মোসাকুকে চরিত্রের প্রস্তাব দেন, যা মেইস্লারের পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়।
পরবর্তীতে সর্কিন এই ঘটনার কথা স্মরণ করে হাসি দিয়ে বলেন, “আমি ওয়ুনমি নিয়ে কোনো দ্বিধা রাখিনি; ফ্রান্সিনের নিশ্চিতকরণই আমাকে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।” তিনি যোগ করেন, “যদি কোনো সন্দেহ থাকত, তবে তা দ্রুত সমস্যায় পরিণত হতো।” এই মন্তব্য মেইস্লারের শিল্পে প্রভাবকে আবারও তুলে ধরে।
‘সিনার্স’ ছবিটি অস্কার নোমিনেশনের ক্ষেত্রে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে এটি সর্বাধিক নোমিনেশন পাওয়া চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা রেজিস্টার্ড কাস্টিং ডিরেক্টরদের জন্য নতুন স্বীকৃতির দরজা খুলে দিতে পারে। মেইস্লারের কাস্টিং পদ্ধতি ও তার নির্বাচিত অভিনেতাদের পারফরম্যান্স এই স্বীকৃতির ভিত্তি গড়ে তুলছে।
অস্কার কমিটি সম্প্রতি কাস্টিং বিভাগকে পুরস্কার দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে, এবং ‘সিনার্স’ ও ‘দ্য সোশ্যাল রেকনিং’‑এর মতো প্রকল্পগুলো এই নতুন ক্যাটেগরির জন্য আদর্শ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মেইস্লারের কাজের মাধ্যমে কাস্টিং শিল্পের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই কাস্টিং সফলতা শুধু এক অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারকে নয়, পুরো শিল্পের কাঠামোকে পরিবর্তন করার সম্ভাবনা রাখে। মেইস্লারের কৌশলগত নির্বাচন ও পরিচালক-অভিনেতা সংযোগের দক্ষতা হোলিউডের ভবিষ্যৎ কাস্টিং মানদণ্ডকে পুনর্গঠন করতে পারে। শিল্পের অভ্যন্তরে এই ধরনের সহযোগিতা নতুন প্রতিভা আবিষ্কারের পথ প্রশস্ত করবে এবং অস্কার ইতিহাসে কাস্টিংকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করবে।



