স্টিভ ব্যানন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাক্তন কৌশলবিদ, সম্প্রতি প্রকাশিত ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের নথিতে ২০১৯ সালে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে টেক্সট বার্তা বিনিময় করেছেন বলে জানান। এই বার্তাগুলোতে তিনি এপস্টেইনকে একটি ডকুমেন্টারিতে অংশগ্রহণের জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন।
বার্তাগুলো ২০১৯ সালের বিভিন্ন তারিখে বিনিময় হয় এবং এপস্টেইনকে সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুত করতে ব্যাননের প্রচেষ্টা প্রকাশ করে। এ সময় এপস্টেইন ফেডারেল কারাগারে দণ্ডিত ছিলেন।
ব্যানন নিজেকে দশকের বেশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও টিভি হোস্ট হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং বলেন, তার এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগকে শুধুমাত্র পেশাদার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত।
তিনি উল্লেখ করেন, তার লক্ষ্য ছিল বিষয়টির গভীরতা বুঝে প্রায় ৫০ ঘণ্টার সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করা, যাতে এপস্টেইনের ব্যক্তিত্বের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা যায়।
ব্যানন আরও জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে গড়ে তোলা এই ডকুমেন্টারিটি এই বছর শেষের দিকে মুক্তি পাবে এবং এপস্টেইনের গড়ে ওঠা মিথগুলোকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য রাখে।
প্রাক্তন পরামর্শদাতা এপস্টেইনের ম্যানহাটন টাউনহাউসে করা একাধিক ভিডিও রেকর্ডিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে তিনি সাক্ষাৎকারের ধারাবাহিকতা পরিচালনা করছিলেন।
সেই রেকর্ডিংগুলোতে ব্যানন প্রশ্নকারী হিসেবে কাজ করেন, আর এপস্টেইন উত্তর দিচ্ছিলেন, যা মিডিয়া প্রশিক্ষণের একটি অংশ হিসেবে দেখা যায়।
ব্যানন জোর দিয়ে বলেন, তার উপস্থিতি সম্পূর্ণভাবে সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে ছিল এবং এপস্টেইনকে স্বচ্ছভাবে কথা বলতে উৎসাহিত করার জন্যই তিনি সেখানে ছিলেন, তার সুনাম পুনর্গঠনের জন্য নয়।
ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের সাম্প্রতিক নথি প্রকাশে এই টেক্সট বিনিময় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে ব্যানন এপস্টেইনকে মিডিয়া পরিচালনা সম্পর্কে পরামর্শও দেন।
পরামর্শের মধ্যে প্রেস প্রশ্নের উত্তর কিভাবে দিতে হবে এবং জনমত গঠন করার কৌশল নিয়ে আলোচনা রয়েছে, যা শুধুমাত্র সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নয়, বরং বিস্তৃত মিডিয়া কোচিং নির্দেশ করে।
এই প্রকাশনা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে; কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, ব্যানন সত্যিই ডকুমেন্টারি তৈরি করছিলেন নাকি এপস্টেইনের সুনাম পুনর্নির্মাণের জন্য মিডিয়া প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন।
সমালোচকরা উল্লেখ করেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর পরই এই টেক্সটগুলো প্রকাশিত হওয়ায় প্রকল্পের উদ্দেশ্যকে নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে, বিশেষ করে তার উত্তরাধিকারকে পুনর্লিখনের সম্ভাবনা নিয়ে।
ব্যাননের ফেব্রুয়ারি ১৬ তারিখের নিউ ইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি পেশাদার উদ্দেশ্যকে জোর দিয়ে বলেছিলেন, এবং মিডিয়া পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করার কোনো ইঙ্গিত প্রত্যাখ্যান করেন।
নথি ও ভিডিও রেকর্ডিং একসাথে ব্যানন ও এপস্টেইনের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়ার একটি জটিল চিত্র তুলে ধরে, যেখানে সাংবাদিক অনুসন্ধান এবং মিডিয়া কৌশল উভয়ই মিশ্রিত হয়েছে, যা ডকুমেন্টারির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে।



