21 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইউরোপীয় পার্লামেন্ট আইনপ্রণেতাদের ডিভাইসে AI টুল নিষিদ্ধ, নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখ

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট আইনপ্রণেতাদের ডিভাইসে AI টুল নিষিদ্ধ, নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখ

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আইটি বিভাগ আইনপ্রণেতাদের কাজের কম্পিউটারে সংযুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) টুল ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাইবার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষত গোপনীয় চিঠিপত্রকে ক্লাউডে আপলোড করার ঝুঁকি। পার্লামেন্টের আইটি বিভাগ একটি ইমেইলে জানায় যে AI সেবার সার্ভারে ডেটা আপলোডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং কোন তথ্য AI কোম্পানিগুলোর সঙ্গে শেয়ার হচ্ছে তা এখনও পূর্ণভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ফলে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো নিষ্ক্রিয় রাখা বেশি নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়েছে।

ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে যে অ্যানথ্রপিকের ক্লড, মাইক্রোসফটের কোপাইলট এবং ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি মত AI চ্যাটবট ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীর তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের সম্ভাবনা থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুসারে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে আদালতের আদেশে ব্যবহারকারীর ডেটা প্রদান করতে হতে পারে। তাছাড়া, এই চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীর ইনপুট থেকে শিখে মডেল উন্নত করে, ফলে এক ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য অন্য ব্যবহারকারীর কাছে প্রকাশের ঝুঁকি বাড়ে।

ইউরোপের ডেটা সুরক্ষা নিয়মগুলো বিশ্বে সবচেয়ে কঠোর হিসেবে স্বীকৃত। তবে, ইউরোপীয় কমিশন গত বছর ডেটা সুরক্ষা বিধি শিথিল করার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে, যাতে টেক জায়ান্টগুলো ইউরোপীয় নাগরিকদের ডেটা ব্যবহার করে AI মডেল প্রশিক্ষণ করতে পারে। এই প্রস্তাবনা সমালোচকদের কাছ থেকে তীব্র বিরোধের মুখে পড়ে, যারা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক কোম্পানিগুলোর প্রতি অতিরিক্ত ছাড় হিসেবে দেখেছেন।

আইটি নিষেধাজ্ঞা এমন সময়ে আসে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের টেক দিগগজদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করছে। এই কোম্পানিগুলো এখনও যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও প্রশাসনিক চাহিদার অধীন, যা কখনও কখনও অপ্রত্যাশিত ও কঠোর হতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ শত শত সমন্বয় আদেশ জারি করে, যাতে টেক ও সামাজিক মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে তাদের ব্যবহারকারীর তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য করা হয়। এই আদেশের লক্ষ্য ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি সমালোচকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।

গুগল, মেটা এবং রেডডিটসহ কয়েকটি বড় প্ল্যাটফর্ম এই আদেশের অধীনে তথ্য প্রদান করেছে। এই ঘটনা ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের টেক কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। ফলে, পার্লামেন্টের AI টুল নিষেধাজ্ঞা কেবল প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে একটি সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই পদক্ষেপটি ডেটা সুরক্ষা ও AI নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নতুন আইন প্রণয়নের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আইটি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন যে পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ নীতি পরিবর্তন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিস্তৃত AI নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর অংশ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে, ইউরোপীয় কমিশনের ডেটা সুরক্ষা শিথিলের প্রস্তাবনা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, যাতে নাগরিকের গোপনীয়তা রক্ষা করা যায় এবং টেক জায়ান্টদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা যায়।

এই প্রেক্ষাপটে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের টেক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি পুনর্নির্ধারণ, ডেটা স্থানান্তর চুক্তি পুনর্বিবেচনা এবং স্থানীয় AI সমাধানের বিকাশে জোর দিতে পারে। পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের ফলে আইনপ্রণেতারা ভবিষ্যতে AI টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বাধ্য হতে পারে, যাতে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে।

সারসংক্ষেপে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আইটি বিভাগ আইনপ্রণেতাদের ডিভাইসে AI টুল নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছে, যা সাইবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনি চাহিদা থেকে উদ্ভূত ঝুঁকি মোকাবেলায় নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ইউরোপীয় ডেটা সুরক্ষা নীতি ও AI নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments