মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় সরকার, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর থাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের অবহেলার পর নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনার আশায় আশাবাদ প্রকাশ করেছে।
বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মন্ত্রী পদে নিয়োগের ঘোষণা প্রকাশিত হলেও, আনুষ্ঠানিক গেজেট নোটিফিকেশন এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবুও স্থানীয় জনগণ এই পরিবর্তনকে অঞ্চলটির শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের সূচনাবিন্দু হিসেবে দেখছে।
থাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসার, সড়ক ও রেল সংযোগের উন্নতি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। তারা থাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা, অর্থনৈতিক অঞ্চল বা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার শক্তিশালীকরণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
অঞ্চলের সামাজিক ঐক্য রক্ষার জন্য সংস্কৃতি ও সমাজিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে সম্প্রদায়ের সমন্বয় বজায় থাকে এবং উন্নয়নের সুফল সমানভাবে ভাগ করা যায়।
থাকুরগাঁওয়ের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মনতোশ কুমার দে মির্জা ফখরুলের এই দায়িত্ব গ্রহণকে “উন্নয়নের নতুন সুযোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী পদে নিযুক্ত হওয়া আলমগীরের কাছে উচ্চশিক্ষা প্রসারের দায়িত্ব রয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণে তিনি সক্ষম হবেন।
থাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সামসুজ্জামান দুলাল মন্ত্রীর কর্মদক্ষতা ও নীতিশীলতার প্রশংসা করে শিল্পখাতে বৃদ্ধির প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইপিজেড স্থাপন, থাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা এবং নতুন শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিকীও কৃষিভিত্তিক শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, উত্তরাঞ্চল দেশের অন্যতম প্রধান কৃষি উৎপাদনকারী অঞ্চল, যেখানে সঠিক নীতি ও সমর্থন পেলে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এবং কৃষক সমিতিগুলি মন্ত্রীর কাছ থেকে দ্রুত থাকুরগাঁও বিমানবন্দরের পুনরায় চালু করা, রোড নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছে। তারা আশা করে, এই পদক্ষেপগুলো অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবাহ বাড়িয়ে দেবে এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি, মন্ত্রীকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সমন্বিত নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও স্কুলের আধুনিকায়ন, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা, উন্নয়নের টেকসই ভিত্তি গড়ে তুলতে অপরিহার্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ না হওয়া সত্ত্বেও, সরকারী সূত্র থেকে জানানো হয়েছে যে তিনি শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। এই দিকটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে মন্ত্রীর ক্ষমতা ও দায়িত্বের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণকে বিএনপি সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তারা উল্লেখ করেন, যদি মন্ত্রী স্থানীয় সমস্যাগুলোকে দ্রুত সমাধান করতে পারেন, তবে এটি সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এবং নির্বাচনী সমর্থন শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
অবশেষে, স্থানীয় জনগণ মন্ত্রীর কাছ থেকে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের প্রত্যাশা রাখে, যাতে দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর হয়ে অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী ধাপগুলোতে নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে কী ধরনের অগ্রগতি হবে, তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



