বিএনপি শাসন গঠনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে কাজ করা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নতুন সরকারের গঠনকে অনুমোদন করেন। এ সিদ্ধান্তের পরই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের কার্যক্রম শেষ বলে ঘোষিত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানের ফলে আওয়ামী লীগ শাসন পতনের পর গঠিত হয়েছিল। একই বছরের ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের তত্ত্বাবধানে একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়, যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কমাতে এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে কাজ করছিল।
বিএনপি শাসন গঠনের পেছনে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সংবিধানিক বিধানকে মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন এবং নীতি নির্ধারণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে বলে সরকারী সূত্র জানায়।
বিএনপি পক্ষের মতে, সংবিধানিক প্রক্রিয়ার সঠিক অনুসরণ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করবে। তারা উল্লেখ করে, নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক এবং বিরোধী দলগুলো নতুন সরকারের গঠনকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে। তারা সতর্কতা প্রকাশ করে যে, সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক সমন্বয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না হলে জনমত বিভাজন বাড়তে পারে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, নতুন শাসন কাঠামো কীভাবে আইনসভা, বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে তা গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে, পূর্বে গৃহীত অস্থায়ী নীতিগুলোকে কীভাবে রূপান্তরিত করা হবে এবং নতুন সরকারের অগ্রাধিকার কী হবে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি হবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যায়, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এদিকে, বিরোধী দলগুলো সরকারকে গণতান্ত্রিক নীতি মেনে চলা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।
সংবিধানিক প্রক্রিয়ার যথাযথ অনুসরণ এবং নতুন সরকারের গঠন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিলুপ্তি নতুন শাসন কাঠামোর সূচনা নির্দেশ করে, যা দেশের ভবিষ্যৎ নীতি ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



