মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় একশো সৈন্যবাহিনী ১৭ ফেব্রুয়ারি নাইজেরিয়ার পূর্ব উত্তরাঞ্চলীয় বাউচি রাজ্যের একটি বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। তারা নাইজেরিয়া সরকারের অনুরোধে ইসলামি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করবে।
বাউচি রাজ্যের বিমানবন্দরে অবতরণ করা সৈন্যবাহিনী এবং সরঞ্জাম সম্পর্কে নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামাইলা উবা জানিয়েছেন, এই দলটি কোনো সরাসরি যুদ্ধময় কার্যক্রমে অংশ নেবে না। তাদের কাজ মূলত প্রশিক্ষণ, কৌশলগত পরামর্শ এবং গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং সীমাবদ্ধ থাকবে।
মেজর জেনারেল উবা উল্লেখ করেন, এই সহায়তা নাইজেরিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের ভিত্তিতে এসেছে এবং এটি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার নতুন পর্যায়কে চিহ্নিত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন সৈন্যবাহিনী কোনো যুদ্ধের অংশ হবে না, বরং প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে নাইজেরিয়া সরকারের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, যেখানে বোকো হরম, ইস্লামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (ISWAP) এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়। সরকার জানিয়েছে, তারা এই গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ক্রিসমাস ডে-তে দুইটি ইসলামি ক্যাম্পে বোমা হামলা, যা উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় পরিচালিত হয়েছিল। ওই হামলা থেকে সৃষ্ট ক্ষতি এবং গোষ্ঠীর কার্যক্রমের হ্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে এই নতুন সহযোগিতা গৃহীত হয়েছে।
নাইজেরিয়া বর্তমানে বহু ধরনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। বোকো হরম ও ISWAP ছাড়াও, দেশটিতে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত অপরাধী গোষ্ঠী লুটপাট ও মুক্তিপণ দাবি করে কাজ করে। এছাড়া ভূমি বিরোধ, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং অন্যান্য সশস্ত্র সংঘাতও বিদ্যমান।
মেজর জেনারেল উবা আরও বলেন, এই সহযোগিতা বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদান করবে, যা নাইজেরিয়ার সন্ত্রাসী হুমকি প্রতিহত করার ক্ষমতা বাড়াবে এবং দুর্বল সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
দুই দেশের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি কর্মদল বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উভয় পক্ষের আলোচনায় প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং তথ্য বিনিময়ের কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে। এই বৈঠকটি দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছে।
মার্কিন আফ্রিকা কমান্ডের পূর্বে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে একটি ছোট আমেরিকান দল নাইজেরিয়ায় কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এই দলটি মূলত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় কাজ করছিল। নতুন অবতরণ করা সৈন্যবাহিনী এই ছোট দলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
প্রাথমিকভাবে, নাইজেরিয়া সরকার অতিরিক্ত দুইশো মার্কিন সৈন্যের আগমনের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছিল। যদিও এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র প্রায় একশো সৈন্যই পৌঁছেছে, তবে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত শক্তি পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই সংখ্যা নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দু’দেশের পারস্পরিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে।
গত বছর শেষের দিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাইজেরিয়ার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হিংসা ও নিপীড়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তিনি নাইজেরিয়া সরকারের কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার এবং খ্রিস্টান জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এই উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন সামরিক সহায়তা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
অগ্রসর হওয়া নিরাপত্তা সহযোগিতার পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে, দুই দেশ আগামী মাসে একটি যৌথ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে বিশেষজ্ঞ দলগুলো স্থানীয় সৈন্যদের আধুনিক যুদ্ধ কৌশল ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণে প্রশিক্ষণ দেবে। এছাড়া তথ্য শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা সহায়তাও আলোচনার বিষয়।
এই সামরিক সহযোগিতা নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার পাশাপাশি, অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিম আফ্রিকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম সীমিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব পুনরায় জোরদার হয়েছে।



