বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ গ্রহণের পরই শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানের শ্মশানে গিয়ে নিজের বাবা-মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি স্ত্রী ও কন্যাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
শপথের অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর শপথও শোনেন। শপথ পাঠের দায়িত্ব মো. সাহাবুদ্দিনের ওপর ছিল, যিনি শপথের শব্দগুলো উচ্চারণ করেন।
বাবা-মায়ের কবর জিয়ারতের সময় জিয়া উদ্যানের নিরিবিলি পরিবেশে শোকের ছায়া দেখা গিয়েছিল। শেরেবাংলা নগরের এই ঐতিহাসিক সমাধিস্থলে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র কবরের পাশে নিজের পিতামাতার সমাধি স্থাপন করেন।
কবর জিয়ারতের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবার ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে মোনাজা করেন। মোনাজা শেষে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময় কাটিয়ে শোক প্রকাশ করেন। উপস্থিতদের মধ্যে বিএনপি’র মিডিয়া সেল, দলীয় কর্মী এবং অন্যান্য সহকর্মী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
বিএনপি’র মিডিয়া সেল জানিয়েছে, কবর জিয়ারতের পর প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সঙ্গে মোনাজায় অংশ নেন এবং সমবেতভাবে শোকের মুহূর্ত ভাগ করেন। সেল আরও উল্লেখ করেছে, এই অনুষ্ঠানটি তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনে প্রথম সরকারি দায়িত্ব গ্রহণের পরের প্রথম প্রকাশ্য কাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পার্লামেন্টের অন্যান্য দল এবং বিরোধী নেতারা এই ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দেননি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই এই ব্যক্তিগত কাজটি করা, তারেক রহমানের রাজনৈতিক চিত্রকে মানবিক দিক থেকে উপস্থাপন করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তার এই পদক্ষেপটি তার পারিবারিক বন্ধন এবং দেশের শোকের সঙ্গে তার সংযোগকে প্রকাশ করে।
বিএনপি’র অভ্যন্তরে এই অনুষ্ঠানকে দলীয় ঐক্যবদ্ধতার একটি প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কবর জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি পারিবারিক দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, যা পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, শপথের পরপরই এই ধরনের ব্যক্তিগত কাজ করা, নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তার সমর্থকদের কাছে নিকটবর্তী করে তুলতে পারে এবং পার্টির ভিতরে মনোবল বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে বিরোধীরা এই কাজকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার ইঙ্গিতও দিতে পারে।
আসন্ন সংসদীয় অধিবেশনের প্রস্তুতি চলাকালীন, তারেক রহমানের এই প্রথম সরকারি কাজটি পার্টির অভ্যন্তরীণ সংগঠনকে পুনর্গঠন এবং জনমত গঠন করার একটি সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে তিনি কীভাবে নীতি নির্ধারণে এগিয়ে যাবেন, তা এই সময়ের রাজনৈতিক গতিবিধির ওপর নির্ভরশীল।
জনসাধারণের দৃষ্টিকোণ থেকে, কবর জিয়ারত অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিবারিক সদস্য এবং দলীয় কর্মীরা শোকের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সরকারের সূচনা দেখেছেন। এই মুহূর্তে উপস্থিতদের মধ্যে শান্তি ও সংহতির পরিবেশ লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
সারসংক্ষেপে, শপথের পর তারেক রহমানের বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করা, তার নতুন রাজনৈতিক দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত দায়িত্বকে একত্রিত করেছে। এই কাজটি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে গণ্য হবে, এবং পার্টি ও দেশের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে এর প্রভাব সময়ের সাথে প্রকাশ পাবে।



