১৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুর ১১টার কাছাকাছি ফরিদপুর শহরের পৌর বাস টার্মিনালে এক ঘটনার ফলে বাস কাউন্টার ব্যবস্থাপক নাজির বিশ্বাসের মাথা রক্তাক্তভাবে ফেটে যায়। তিনি বিকাশ পরিবহনের বাস কাউন্টার পরিচালনা করেন এবং দৈনিক বারোটি ট্রিপের দায়িত্বে আছেন। চাঁদা না দেওয়ার দাবি নিয়ে পাঁচজন অপরিচিত ব্যক্তি লোহার রড দিয়ে হঠাৎ আক্রমণ চালায়।
নাজির বিশ্বাস, ৪৫ বছর বয়সী, নড়াইলের লোহাগাড়া উপজেলার লাহুরিয়া গ্রাম থেকে আসা বাস কর্মী, তিন বছর ধরে একই পদে কর্মরত। তিনি জানান, প্রতিদিন দূরপাল্লা রুটে বারোটি ট্রিপ চালিয়ে গড়ে প্রায় দশ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের চাপের মুখে ছিলেন। দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে অপরাধীরা প্রতি ট্রিপে আটটি সিটের জন্য এক সিটে একশ টাকা করে অতিরিক্ত টাকা চায়, যা তিনি অস্বীকার করেন।
মঙ্গলবারের সকালে পাঁচজন ব্যক্তি এসে দাবি করে যে প্রতিটি গাড়িতে আটটি সিট দিতে হবে এবং একবারে দুই লাখ টাকা দিতে হবে। নাজির বিশ্বাস তার অস্বীকারের পর গালাগাল শোনার পরও দৃঢ় থাকেন। প্রায় দশ থেকে পনেরো মিনিটের মধ্যে অপরাধীরা ফিরে এসে লোহার রড দিয়ে তার ওপর আক্রমণ চালায়, ফলে তার মাথা রক্তে ভেজা অবস্থায় ফেটে যায়।
আহত অবস্থায় নাজিরকে সহকর্মীরা তৎক্ষণাৎ সাহায্য করে এবং রক্তপাত থামাতে চেষ্টা করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে কাছাকাছি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তার মাথার ক্ষত গুরুতর বলে ডাক্তারেরা জানায়, তবে তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।
আক্রমণকারীদের মধ্যে তিনজনকে নাজির বিশ্বাস চেনেন, তবে অন্য দুইজনের পরিচয় তিনি জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, রামদা দিয়ে কোপ দিতে চাওয়া অপরাধীদের হাত তিনি নিজের হাত দিয়ে থামিয়ে দেন, তবে সহকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা থেকে জানানো হয়েছে যে, এখনো এই ঘটনার কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। থানা কর্মকর্তারা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত চালু করা হবে।
স্থানীয় পুলিশ তদন্তের অধীনে রয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। রক্তের নমুনা, রডের টুকরা এবং নিরাপত্তা ক্যামেরার রেকর্ড সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে বলে থানা কর্মকর্তা জানান।
এই ধরনের চাঁদা-দাবি ভিত্তিক হিংসা অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে কঠোর শাস্তি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন দাবি করা হচ্ছে।



