লন্ডনের BFI Flare লন্ডন LGBTQIA+ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৪০তম সংস্করণ মার্চ মাসে শুরু হবে এবং এই বছরের প্রোগ্রামে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বহু নতুন চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার অন্তর্ভুক্ত। ফেস্টিভ্যালের আয়োজকরা জানিয়েছেন যে ইম্মা লেয়ার্ড, ফিয়ন হোয়াইটহেড, লাক্স পাস্কাল, রুপার্ট এভারেট এবং রেইন স্পেন্সারসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত শিল্পীর কাজ বড় পর্দায় দেখা যাবে। ফেস্টিভ্যালের মূল লক্ষ্য হল LGBTQIA+ সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতা তুলে ধরা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়গুলোকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আলোচনার মঞ্চে আনা।
প্রথম সন্ধ্যায় জেনিফার ক্রুটের “হাঙ্কি জিসাস” ডকুমেন্টারির বিশ্বপ্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। এই চলচ্চিত্রটি সান ফ্রান্সিসকোর বিখ্যাত সামাজিক ন্যায়বিচার গোষ্ঠী দ্য সিস্টারস অফ পারপেচুয়াল ইন্ডালজেন্সের কার্যক্রমকে অনুসরণ করে এবং শহরের ঐতিহ্যবাহী ইস্টার সানডে উদযাপনের সঙ্গে মিশিয়ে উপস্থাপন করে। চলচ্চিত্রটি গোষ্ঠীর রঙিন রীতিনীতি ও সমুদায়ের স্বতন্ত্র সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরবে।
ফেস্টিভ্যালের সমাপনী চলচ্চিত্র হিসেবে স্যান্ডুলেলা আসান্দার “ব্ল্যাক বার্নস ফাস্ট” উপস্থাপন করা হবে। গল্পটি লুথান্ডোর উপর ভিত্তি করে, যিনি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি মর্যাদাপূর্ণ বোর্ডিং স্কুলে বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করেন। সাধারণ একাডেমিক বছরের পথে চলতে থাকা লুথান্ডোর গোপন আকাঙ্ক্ষা নতুন সহপাঠীর আগমনে জাগ্রত হয়, যা তার অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে নতুন মোড় দেয়। এই চলচ্চিত্রটি যুবক শিক্ষার্থীর আত্ম-অন্বেষণ ও সামাজিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে টানাপোড়েনকে সূক্ষ্মভাবে চিত্রায়িত করে।
ডক্টর হু শোয়ের স্রষ্টা রাসেল টি. ডেভিস ফেস্টিভ্যালের বিশেষ সেশনে উপস্থিত থাকবেন। তিনি তার দীর্ঘদিনের সৃষ্টিকর্ম ও আসন্ন চ্যানেল ৪ সিরিজ “টিপ টো” নিয়ে আলোচনা করবেন। ডেভিসের কাজের মধ্যে “কুইয়ার অ্যাজ ফোক” (১৯৯৯), “কিউকম্বার” (২০১৫), “বানানা” (২০১৫) এবং হিট সিরিজ “ইটস এ সিন” (২০২১) উল্লেখযোগ্য, যা সমকামী জীবনের বাস্তবতা, সম্পর্ক এবং এইডস মহামারীর প্রভাবকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য স্ক্রিনিংয়ের মধ্যে রয়েছে হ্যারি লাইটনের বেডিএসএম রোম্যান্স “পিলিয়ন” এবং অ্যালেক্সান্ডার স্কার্সগার্ড, হ্যারি মেলিং, অ্যালেক্স বুরুনোভা প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করছেন। এছাড়া অ্যালেক্স বুরুনোভা পরিচালিত “স্যাটিসফ্যাকশন” চলচ্চিত্রটি দুই ব্রিটিশ সুরকারের সৃজনশীল টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে, যেখানে ইম্মা লেয়ার্ড ও ফিয়ন হোয়াইটহেডের পারফরম্যান্স বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
লাক্স পাস্কালের নেতৃত্বে নির্মিত “কুইন অফ কোয়াল” চলচ্চিত্রটি পাটাগোনিয়ার প্রথম মহিলা কয়লা খনির জীবনীকে ভিত্তি করে তৈরি। এই ছবিতে পাটাগোনিয়ার কঠিন ভূখণ্ডে প্রথম নারী শ্রমিকের সংগ্রাম ও সাফল্যকে চিত্রায়িত করা হয়েছে, যা শিল্পের ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন আলো ফেলবে। চলচ্চিত্রটি ফেস্টিভ্যালের সূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে এবং সমকামী ও লিঙ্গবৈচিত্র্যের দৃষ্টিকোণ থেকে তার গল্পকে পুনর্গঠন করবে।
রুপার্ট এভারেটের অংশগ্রহণে সেলিন জোন্সের “ম্যাডফ্যাবুলাস” চলচ্চিত্রটি বিশ্বপ্রিমিয়ার পাবে। এভারেট রুবি স্টোকস (ব্রিজগার্টনের) এবং কলাম স্কট (ইটস এ সিনের) সঙ্গে কাজ করছেন। এই কৌতুকপূর্ণ ঐতিহাসিক নাটকটি হেনরি সাইরিল পেজেটের জীবনকে ভিত্তি করে, যাকে অ্যানগ্লেসির নাচের মারকুইস হিসেবে পরিচিত। পেজেটের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব ও রঙিন জীবনধারা চলচ্চিত্রে রঙিনভাবে উপস্থাপিত হবে, যা দর্শকদের অতীতের এক অনন্য দিক দেখাবে।
ফেস্টিভ্যালের পুরো প্রোগ্রামটি লন্ডনের সমসাময়িক শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে সমন্বিত, যেখানে LGBTQIA+ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণকে স্বীকৃতি ও উদযাপন করা হবে। অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা এবং সামাজিক ইভেন্টে অংশ নিতে পারবেন, যা সমন্বিত সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে লন্ডন শহর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের মঞ্চে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়।



