শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি নেতা ও বিরোধী দলের প্রধান, আজ শপথ গ্রহণের পর একাধিক বিদেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন। শপথ গ্রহণের পরপরই বিভিন্ন দেশের সরকারী প্রতিনিধিরা তার অফিসে এসে নতুন বিরোধী নেতার পদে স্বাগত জানিয়ে মতবিনিময় করেন।
শফিকুরের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানটি ঢাকা শহরের একটি সরকারি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পার্টির অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বহু নেতা উপস্থিত ছিলেন। শপথের পরপরই জামায়াত-এ-ইসলামির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিদেশি প্রতিনিধিরা শফিকুরের সঙ্গে আলাপের সময় তার নতুন দায়িত্বে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বৈদেশিক মন্ত্রণালয় ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দলটি শফিকুরের অফিসে এসে একে একে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরটি শফিকুরের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি বাড়ানোর পাশাপাশি পার্টির বহিরাগত নীতি সমন্বয়ের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রতিনিধি শফিকুরের সঙ্গে আলাপের সময় পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং তার নতুন পদে শুভেচ্ছা জানিয়ে যান।
সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ত্সেরিং টোবগে, যুক্তরাজ্যের ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগর মন্ত্রী সিমা মালহোত্রা, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্র সচিব বেরিস একিনচি, পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং নেপাল সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা। প্রত্যেকেই শফিকুরের সঙ্গে একান্তে কথা বলে তার নতুন দায়িত্বে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ত্সেরিং টোবগে শফিকুরের সঙ্গে একান্তে বসে দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় করেন। টোবগে শফিকুরকে বলেছিলেন, ভুটান তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি সমর্থন করবে এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগর মন্ত্রী সিমা মালহোত্রা শফিকুরের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামো ও বাণিজ্যিক সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে সমর্থন প্রদান করবে এবং শফিকুরের নেতৃত্বে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে সহযোগিতা বাড়বে।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি শফিকুরকে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব ও সীমানা নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় নিয়ে কথা বলেন। মিস্রি জানান, ভারত শফিকুরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নীতি সমন্বয়ে সহায়তা করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্র সচিব বেরিস একিনচি শফিকুরের সঙ্গে ধর্মীয় সংহতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলাপ করেন। একিনচি তুরস্কের ইসলামিক দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে শফিকুরের ভূমিকা স্বীকৃতি দেন এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবাল শফিকুরকে পাকিস্তানের সঙ্গে অবকাঠামো প্রকল্প ও জ্বালানি সহযোগিতা বিষয়ে মতবিনিময় করেন। ইকবাল উল্লেখ করেন, পাকিস্তান শফিকুরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সহায়তা করতে প্রস্তুত এবং পারস্পরিক সুবিধা অর্জনের জন্য কাজ করবে।
নেপাল সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা শফিকুরের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। শর্মা জানান, নেপাল শফিকুরের সঙ্গে সমন্বয় করে দু’দেশের সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে চায় এবং পরিবেশ সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তুলতে ইচ্ছুক।
এই সব সাক্ষাৎকারে জামায়াত-এ-ইসলামির নায়েব-এ-আমীর ও সংসদ সদস্য এ.টি.এম অজহারুল ইসলাম, সহকারী সচিব জেনারেল ও বিরোধী হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং পার্টি চিফের বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই শফিকুরের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন এবং বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কে সমর্থন জানান।
সাক্ষাৎকারে উল্লিখিত বিষয়গুলোতে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে যৌথ প্রকল্প, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সমন্বয় গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। শফিকুরের নতুন বিরোধী নেতার পদে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপ্রকোপ সৃষ্টি করতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে পার্টির নীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



