নটিংহাম ফরেস্টের নতুন প্রধান কোচ ভিটর পেরেইরা, ক্লাবের মালিক ইভ্যানগেলস মারিনাকিসের সঙ্গে ভাগ করা বিশ্বাসকে ভিত্তি করে সিটি গ্রাউন্ডের কঠিন কাজটি সামলাতে প্রস্তুত। পেরেইরা, যিনি পূর্বে উলভসের দায়িত্বে ছিলেন, এই মৌসুমে নটিংহাম ফরেস্টের চতুর্থ ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার আগের তিনজন কোচ—সিন ডাইচ, নুনো এস্পিরিটো সান্তো এবং আঞ্জে পোস্টেকোগ্লু—সম্প্রতি ক্লাব ছেড়ে গেছেন, যা মালিকের রিগ্রেশন রোধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পেরেইরা এবং মারিনাকিসের সম্পর্কের মূল শিকড় গ্রীক ক্লাব অলিম্পিয়াকোসে। এক দশকেরও বেশি আগে, দুজনেই একসাথে কাজ করে লিগ ও কাপ ডাবল জিতেছিলেন, যা পেরেইরাকে বর্তমান চ্যালেঞ্জে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, মারিনাকিসের লক্ষ্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং তিনি আবেগপূর্ণ, যা পেরেইরার সঙ্গে সমন্বয় ঘটায়। দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ভিত্তি হল পারস্পরিক সম্মান এবং কাজের প্রতি উত্সাহ।
পেরেইরা বলেন, অলিম্পিয়াকোসে কাজের সময় তারা যে উত্সাহ ও আগুন দেখিয়েছিল, তা এখন নটিংহাম ফরেস্টে পুনরায় জ্বালাতে চান। তিনি গ্রীসকে তুরস্কের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, উভয় দেশের ফুটবলে উন্মাদনা ও শক্তি প্রবল। “আমি তার সঙ্গে কাজের সময় যে জ্বালানি অনুভব করেছি, তা আবার এখানে আনতে চাই,” তিনি বলেন।
ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে পেরেইরা জোর দেন, তিনি নিজের কাজের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাস রাখেন এবং মারিনাকিসের ব্যক্তিত্বের ওপরও আস্থা রাখেন। “ফুটবলে আবেগ ও উত্সাহ অপরিহার্য,” তিনি বলেন, “আমি আগুন ও প্যাশন নিয়ে এসেছি, যা আমার জীবনের অংশ।” তিনি নিজের শারীরিক ও মানসিক শক্তি ক্লাবের সেবায় নিবেদন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যাতে দলটি চাপের মধ্যে উন্নতি করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে, সিন ডাইচের পদত্যাগের পর উলভসের সঙ্গে কোনো গোল না হওয়া ড্রের পর ক্লাবের সিনিয়র খেলোয়াড়দের মারিনাকিসের অফিসে ডিব্রিফের জন্য ডাকা হয়। এই ঘটনা ডাইচের তৎক্ষণাৎ বরখাস্তের দিকে নিয়ে যায়। পেরেইরা এই পরিবর্তনের পর দলের মনোবল বাড়াতে চান এবং খেলোয়াড়দের তার দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তিত্বে বিশ্বাস রাখতে আহ্বান জানান। “যদি আপনি ম্যানেজারের ধারণা না গ্রহণ করেন, তবে তা বড় সমস্যা,” তিনি জোর দিয়ে বলেন।
পেরেইরা আরও যোগ করেন, খেলোয়াড়দের শুধু কৌশল নয়, কোচের ব্যক্তিত্বকেও গ্রহণ করতে হবে। তিনি উন্মুক্ত মন নিয়ে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যাতে দলটি একসঙ্গে লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। “চাপই আমাদের সেরা পারফরম্যান্সের চালিকাশক্তি,” তিনি উল্লেখ করেন, “এটি আমাদের ফুটবলের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয়।” এই দৃষ্টিভঙ্গি তিনি নিজের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চান।
নটিংহাম ফরেস্টের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পেরেইরা দলের সঙ্গে নতুন কৌশল ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছেন, যাতে সিটি গ্রাউন্ডে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সময় আত্মবিশ্বাস বজায় থাকে। তিনি খেলোয়াড়দেরকে চাপের মধ্যে নিজেদের সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে চান।
ক্লাবের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন সত্ত্বেও, পেরেইরা আশাবাদী যে তার এবং মারিনাকিসের পারস্পরিক বিশ্বাস দলকে প্রিমিয়ার লিগে বেঁচে রাখতে সাহায্য করবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি এখানে পুরো হৃদয় ও আত্মা দিয়ে কাজ করতে এসেছি, যাতে ক্লাবের জন্য সেরা ফলাফল অর্জন করা যায়।” এই দৃঢ়সংকল্পই নটিংহাম ফরেস্টের নতুন অধ্যায়ের ভিত্তি হবে।



