শামির ২২.১ ওভারে ৯০ রানে ৮ উইকেট নিয়ে রাঞ্জি ট্রফি দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে বাংলা দলকে জাম্মু ও কাশ্মীরের বিপক্ষে জয়ী করালেন। এই পারফরম্যান্স তার ক্যারিয়ারের অন্যতম শীর্ষ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
কোয়ার্টার-ফাইনালে শামিরের পারফরম্যান্স তেমন উজ্জ্বল ছিল না; দুই ইনিংস মিলিয়ে ২০ ওভার বোলিং করে মাত্র এক উইকেট নেয়া গিয়েছিল। তবে সেমি-ফাইনালে তিনি বল হাতে জ্বলে উঠে পুরো ম্যাচের দিক পরিবর্তন করেন।
সেমি-ফাইনালে শামিরের বোলিং গতি ও সুইংয়ের সমন্বয় বিশেষভাবে কার্যকরী ছিল। প্রথমে দুই ওপেনারকে এলবিডব্লিউ করে দলকে প্রাথমিক চাপ সৃষ্টি করেন, এরপর ছয় ব্যাটসম্যানকে ধারাবাহিকভাবে আউট করে শত্রুর স্কোরকে ৩২৮ রানে সীমাবদ্ধ রাখেন। তার এই আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি বাংলা দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলা একেডেমি গ্রাউন্ডে প্রথম ইনিংসে শামিরের দল ৩২৮ রান তৈরি করে। কোয়ার্টার-ফাইনালে ২৯৯ রানে আউট হওয়া সুদিপ কুমার ঘরামি এবার ১৪৬ রানের স্থায়িত্ব দেখিয়ে দলের স্কোরে বড় অবদান রাখেন। শামিরের বোলিংয়ের পরিপূরক হিসেবে ব্যাটিং ইউনিটের দৃঢ়তা ম্যাচের ফলাফলকে সমর্থন করে।
শামিরের এই পারফরম্যান্স তার বয়সের দৃষ্টিতে অনন্য; ৩৫ বছর বয়সে প্রথম ইনিংসে এত বেশি উইকেট নেওয়া আগে কেউ করেনি। তার পূর্বের সেরা বোলিং ছিল ২০১২-১৩ মৌসুমে ৭৯ রানে ৭ উইকেট, যখন তিনি বাংলার হয়ে মধ্য প্রদেশের বিপক্ষে খেলেছিলেন। সেমি-ফাইনালের এই রেকর্ড তাকে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে স্থাপন করেছে।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলা দল ব্যাটিংয়ে স্রেফ ৯৯ রানে গুটিয়ে যায়, ফলে ১২৬ রানের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়। জাম্মু ও কাশ্মীর ২ উইকেটে ৪৩ রান করে শেষ ইনিংসের শেষ পর্যায়ে চাপ বাড়িয়ে দেয়। যদিও শামিরের বোলিং দলকে বড় লিড দিয়েছিল, তবে ব্যাটিংয়ের এই দুর্বলতা ফলাফলকে হালকা করে দেয়।
শামিরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও উল্লেখযোগ্য। তিনি সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচে ২০২৩ সালের জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অংশ নেন। একই বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে চমৎকার বোলিং করার পর চোটের কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য দলে থেকে দূরে থাকেন। পুনর্বাসনের পর ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফিরে আসলেও, এরপর থেকে তিনি জাতীয় দলে পুনরায় সুযোগ পাননি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে শামির ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স বজায় রাখছেন। রাঞ্জি ট্রফির গত মৌসুমে তিনি বাংলার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন, আর টি-টোয়েন্টি সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে দলটির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। এই সিজনে ১৩ ইনিংসে তিনি মোট ৩৬ উইকেট নেন, যা পেসারদের মধ্যে কেবল জাম্মু ও কাশ্মীরের আকিব নাবি (৫৫ উইকেট) ছাড়া অন্য কেউ অতিক্রম করেনি।
শামিরের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা বাড়ছে। ৮ উইকেটের পারফরম্যান্সের পর সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার ইরফান পাঠা তার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেন, তবে এখনো নির্বাচনী কমিটি স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। শামিরের পুনরায় জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
বাংলা দল রাঞ্জি ট্রফি ফাইনালে জাম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। শামিরের ফর্ম বজায় থাকলে দলটি শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে পারবে। পরবর্তী ম্যাচের ফলাফল বাংলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



