চেন্নাইতে অনুষ্ঠিত ট২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে নিউজিল্যান্ডের গ্লেন ফিলিপ্স দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলকে জয়ী করিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তান ও দ্বিতীয় ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে তিনি প্রারম্ভিক উইকেটের পর দ্রুত স্কোর বাড়িয়ে টিমকে স্থিতিশীল করেন।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওভারে মুজিব উর রহমান ফিন অ্যালেন ও রাচিন রাভিন্দ্রাকে ধারাবাহিকভাবে আউট করেন, ফলে নিউজিল্যান্ড ২ উইকেটের ক্ষতিতে পড়ে। ফিলিপ্স তৎক্ষণাৎ ব্যাটিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শুরুর ওভারগুলোতে আক্রমণাত্মক শট চালিয়ে মুজিবকে তিনটি বাউন্ডারি দিতে বাধ্য করেন, রাশিদ খানকেও সীমিত সুযোগে রাখেন।
ফিলিপ্সের আক্রমণ চলতে থাকায় নিউজিল্যান্ডের স্কোর দ্রুত বাড়ে এবং তিনি মাঠ ছাড়ার সময় পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু স্কোরের প্রায় অর্ধেকই অর্জন করে ফেলেন। এই পারফরম্যান্সের ফলে আফগানিস্তানের লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে কমে যায় এবং নিউজিল্যান্ড সহজে ম্যাচটি জয়লাভ করে।
১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার কানাডির সঙ্গে শেষ গ্রুপ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের শুরুর গতি আবারই ব্যাহত হয়। কানাডা ফিন অ্যালেন ও টিম সিফার্টকে দ্রুত আউট করে ৩০ রানে ২ উইকেটের ক্ষতি করে, যা দলকে অস্থির অবস্থায় ফেলেছিল। উভয় ব্যাটসম্যানই কয়েক দিন আগে একই ভেন্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ১০ উইকেটের বড় জয়ে পরাজিত করেছিল।
কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত করার জন্য চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিলিপ্স রাভিন্দ্রার সঙ্গে জোড়া বাঁধে, যিনি সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ফর্মের শীর্ষে ছিলেন না। তবু ফিলিপ্সের স্বভাবিক আত্মবিশ্বাসে তিনি দ্রুত গতি পুনরুদ্ধার করেন এবং চার ওভারে পাঁচটি ছয় মারেন, যা দলকে দ্রুত স্কোর বাড়াতে সাহায্য করে।
ফিলিপ্স পুরো ইনিংস শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে রাভিন্দ্রাকে সমর্থন করেন। রাভিন্দ্রা মাঝামাঝি সময়ে দ্রুত অর্ধশতক পূর্ণ করে, ফলে নিউজিল্যান্ডের মোট স্কোর স্থিতিশীল হয়। ফিলিপ্সের স্বতন্ত্র সুইচ-হিটও এই মুহূর্তে ব্যবহার করে তিনি বলকে রোপসের বাইরে পাঠিয়ে শটটি শেষ করেন।
ফিলিপ্সের মন্তব্যে তিনি বলেছিলেন, “শর্ট সাইড, লেগ সাইড, এবং বামহাতি থেকে ডানহাতি হয়ে সুইচ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল কাও কর্নারকে মুক্ত রাখা।” তিনি আরও যোগ করেন, “সেই সময়ে সুযোগটি ব্যবহার করা প্রয়োজন ছিল।” এই বিবরণে তার কৌশলগত চিন্তাভাবনা স্পষ্ট হয়।
দুইটি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ যথাক্রমে আফগানিস্তান ও কানাডা উচ্চ স্কোরের চেষ্টা করলেও ফিলিপ্সের দ্রুত আক্রমণ তাদের পরিকল্পনা নষ্ট করে দেয়। উভয় ম্যাচই ১১ টায় চেন্নাইয়ের স্টেডিয়ামে শুরু হয় এবং নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে।
গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জয় তাদের টেবিলে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে এবং পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হওয়ার পথ সুগম করে। পরবর্তী ম্যাচে দলটি একই গ্রুপের অন্য একটি দলের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যা কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
কোচিং স্টাফের মতে, ফিলিপ্সের এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে এবং টিমের আক্রমণাত্মক বিকল্পকে বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “গ্লেনের আক্রমণাত্মক শটগুলো আমাদের টিমের গতি বাড়িয়ে দেয় এবং দ্রুত স্কোর অর্জনে সহায়তা করে।” এই দৃষ্টিভঙ্গি দলকে ভবিষ্যৎ ম্যাচে আত্মবিশ্বাস দেয়।
নিউজিল্যান্ডের ক্যাপ্টেনও ফিলিপ্সের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, “তার দ্রুত রেসপন্স এবং আক্রমণাত্মক শৈলী আমাদেরকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।” ক্যাপ্টেনের এই মন্তব্য দলীয় ঐক্যের প্রতিফলন ঘটায়।
সারসংক্ষেপে, গ্লেন ফিলিপ্সের দুইটি ম্যাচে দ্রুত রেসকিউ ইনিংস নিউজিল্যান্ডকে ট২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে অগ্রগতি নিশ্চিত করেছে। তার শটের বৈচিত্র্য, সুইচ-হিটের ব্যবহার এবং চাপের মুহূর্তে দৃঢ়তা দলকে বড় লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেছে।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে নিউজিল্যান্ডের শেডিউল অনুযায়ী, তারা পরের সপ্তাহে একই গ্রুপের শীর্ষ দলে মুখোমুখি হবে, যা কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। দলটি এখনো ফিলিপ্সের ফর্ম বজায় রাখতে এবং ব্যাটিং লাইনআপকে শক্তিশালী করতে মনোযোগ দেবে।



