কেনিয়ার রাজধানী নায়রোবিতে অবস্থিত জোমো কেনিয়াট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (JKIA) কর্মীদের ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে শ্রমিকদের ও ইউনিয়নের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয় এবং কাজ পুনরায় শুরু হয়। এই সমঝোতা দুই দিনব্যাপী বাতিল, দেরি এবং বিকল্প রুটের সমস্যাকে কিছুটা কমিয়ে আনবে, যা পূর্বে বিমান চলাচলকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করেছিল।
ধর্মঘটের ফলে সব ধরনের ফ্লাইটে বাতিল, দেরি এবং বিকল্প গন্তব্যে রুট পরিবর্তন দেখা গিয়েছে; বিশেষত JKIA-তে যাত্রীরা ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন। বিমানবন্দরের টার্মিনালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা যাত্রীদের সংখ্যা শত শতের ওপর, যা স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।
পরিবহন মন্ত্রণালয় দ্রুতই ইউনিয়ন, এয়ারলাইন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় অংশ নেয়। মন্ত্রিপরিষদ এই আলোচনাকে ধর্মঘটের তীব্রতা কমাতে এবং বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচনা করেছে।
পরিবহন মন্ত্রী ডেভিস চিরচিরের মতে, বিমান চলাচল দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখে এবং সরকার এই সেক্টরের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিমান শিল্পের সুষ্ঠু কাজকর্ম না হলে বাণিজ্যিক ও পর্যটন আয় হ্রাস পেতে পারে।
যাত্রীরা এখনো তাদের এয়ারলাইন থেকে সর্বশেষ ফ্লাইট সময়সূচি যাচাই করে বিমানবন্দরে যাওয়ার পরামর্শ পাচ্ছেন। এই সতর্কতা বিশেষত যেসব যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন, তাদের জন্য জরুরি নির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর JKIA-তে আটকে থাকা শত শত যাত্রীকে অবশেষে যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্বে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের পুনঃনির্ধারণ এবং অতিরিক্ত টার্মিনাল সেবা পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একজন কেনিয়ান ছাত্র, যিনি যুক্তরাজ্য গমনীয় ছিল, তিনি ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিমানবন্দরে কাটিয়েছেন এবং পশ্চিমে অবস্থিত তার বাড়ি থেকে দূরে থাকার কারণে বাড়িতে ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তার অভিজ্ঞতা ধর্মঘটের মানবিক প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
ধর্মঘটের প্রভাবের মধ্যে কিছু এয়ারলাইনও তৎক্ষণাৎ তাদের সেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। উদাহরণস্বরূপ, প্রিমিয়ার এয়ারলাইনস, যা সরাসরি দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবা-তে ফ্লাইট পরিচালনা করে, মঙ্গলবারের পুরো দিন তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করে।
কেনিয়া এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন ধর্মঘটের অব্যাহত থাকা নিয়ে ক্রু শিডিউলিং ও বিশ্রামের ওপর প্রভাবের উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা উল্লেখ করে যে, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং বিশ্রামের অভাব পাইলটদের ক্লান্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়।
কেনিয়া এভিয়েশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (KAWU) পূর্বে বেতন ও কাজের পরিবেশের সমস্যার কারণে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল। ইউনিয়নের গোপনীয়তা অনুযায়ী, কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি এবং কাজের শর্তের উন্নতি না হলে ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
ইউনিয়নের সেক্রেটারি জেনারেল মোস নডিয়েমা উল্লেখ করেন যে, ধর্মঘটের প্রধান কারণ হল কেনিয়ান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি বেতন ও কাজের শর্ত সম্পর্কিত সমষ্টিগত দরকষাকষি চুক্তি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই চুক্তি না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে।
বিমান সেক্টরের কর্মীরা কেনিয়া সিভিল এভিয়েশন অথরিটিকে দায়ী করে বলেন যে, নিয়মিত সংলাপের অভাব এবং নীতি নির্ধারণে অস্বচ্ছতা ধর্মঘটের মূল চালিকাশক্তি। এই অভিযোগগুলো শিল্পের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আস্থা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ধর্মঘটের ফলে বিমানবন্দরের ক্যারিয়ার ও কার্গো অপারেশন দুটোই উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। রপ্তানি-আমদানি পণ্য ও পর্যটক প্রবাহের বিলম্বের ফলে স্থানীয় ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অংশীদারদের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া, এয়ারলাইনগুলোর রিভার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI) হ্রাস পায় এবং শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা কমে।
ভবিষ্যতে, শ্রমিক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বিত দরকষাকষি না হলে পুনরায় ধর্মঘটের ঝুঁকি বিদ্যমান। স্থিতিশীল বিমান পরিবহন নিশ্চিত করতে বেতন, কাজের শর্ত এবং নিরাপত্তা মানদণ্ডে স্পষ্ট চুক্তি প্রয়োজন। এই ধরনের সমঝোতা না হলে, কেনিয়ার পর্যটন ও বাণিজ্যিক সেক্টরে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।



