ইংল্যান্ডের মহিলা ফুটবল দল ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার ম্যাচের জন্য প্রথম স্কোয়াড প্রকাশ করেছে। কোচ সারিনা উইগম্যান নিশ্চিত করেছেন যে তার চুক্তি শেষের দিকে যাওয়া দলকে কোনোভাবে ব্যাহত করবে না এবং খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিতে সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকবে। দলটি ৩ মার্চ টার্কিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এবং পরবর্তীতে আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে, যা ২০২৭ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের প্রথম ধাপ।
ক্যাপ্টেন লিয়া উইলিয়ামসন, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে ফিটনেস পুনরুদ্ধার করেছেন, পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। তার সঙ্গে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সহ-জয়ী হ্যান্না হ্যাম্পটন, অ্যালেক্স গ্রিনউড এবং লরেন জেমসও আঘাত থেকে সেরে ফিরে স্কোয়াডে যুক্ত হয়েছেন। এছাড়া জেস কার্টার, যিনি ২০২৫ সালের শেষ ম্যাচগুলোতে এনডব্লিউএসএল প্লে-অফের কারণে অনুপস্থিত ছিলেন, তাকে আবার ডাকা হয়েছে।
তবে কিছু মূল খেলোয়াড় আঘাতের কারণে অনুপস্থিত থাকবে। এলা টুন, বেথ মেড, নিয়াম চার্লস এবং মিসি বো কিয়ার্নসের নাম তালিকায় নেই, যা দলের আক্রমণাত্মক বিকল্পকে সীমিত করবে। এই খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও কোচ উইগম্যান দলকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জুনে যোগ্যতা নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করতে বলছেন, যাতে প্লে-অফের ঝামেলা এড়ানো যায়।
সারিনা উইগম্যান ২০২১ সালে ইংল্যান্ডের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দলকে ঐতিহাসিক সাফল্যের পথে নিয়ে গেছেন। তার চুক্তি ২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর শেষ হবে, তবে তিনি বর্তমান কোয়ালিফায়ার পর্যায়ে কোনো আপডেটের ইঙ্গিত দেননি। তিনি বলছেন, “আমরা সবসময় কথোপকথনে থাকি, তবে এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো যোগ্যতা নিশ্চিত করা।”
কোচের মতে, চুক্তি সংক্রান্ত কোনো প্রশ্নই দলের মনোযোগকে বিচ্যুত করবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, “দল বা স্টাফের মধ্যে কেউই এই বিষয় নিয়ে চিন্তিত নয়। আমরা সম্পূর্ণভাবে কোয়ালিফায়ারের দিকে মনোনিবেশ করছি এবং শীঘ্রই শুরু করতে উচ্ছ্বসিত।”
ইউক্রেনের সঙ্গে ম্যাচটি টার্কিতে অনুষ্ঠিত হবে, কারণ চলমান যুদ্ধের কারণে দেশীয় মাটিতে খেলা সম্ভব নয়। উইগম্যান ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “এটি খুবই দুঃখজনক এবং হৃদয়বিদারক যে ইউক্রেনের মানুষ কী অভিজ্ঞতা পেয়েছে, এবং আমরা সেখানে খেলতে পারছি না।” তবে তিনি টার্কির প্রশিক্ষণ সুবিধা ও বাসস্থানকে যথাযথ সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইংল্যান্ডের স্কোয়াডের গঠন মূলত আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রাখে। ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বে ডিফেন্সের দৃঢ়তা এবং হ্যাম্পটন ও গ্রিনউডের অভিজ্ঞতা দলকে শক্তিশালী করে তুলবে। জেমস এবং কার্টার আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যদিও টুন ও মেডের অনুপস্থিতি আক্রমণকে কিছুটা সীমিত করবে।
কোচ উইগম্যানের মতে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে জুনে যোগ্যতা নিশ্চিত করা দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “যদি আমরা জুনে সরাসরি যোগ্যতা পাই, তবে তা আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিকে আরও স্থিতিশীল করবে।” এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দলটি শারীরিক ও মানসিকভাবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউক্রেনের সঙ্গে ম্যাচের সময়সূচি ৩ মার্চ, গ্রীনউইচ মান সময়ে বিকাল ৫টায় নির্ধারিত। ম্যাচের স্থান মার্ডান, টার্কি, যেখানে প্রশিক্ষণ মাঠ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা যথাযথ বলে কোচ উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী ম্যাচ আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে হবে, যা কোয়ালিফায়ার গ্রুপের শেষ সুযোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ইংল্যান্ডের এই স্কোয়াডের ঘোষণা এবং কোচের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। চুক্তি নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি না থাকায় খেলোয়াড়রা সম্পূর্ণভাবে মাঠে তাদের পারফরম্যান্সের উপর মনোযোগ দিতে পারবে। কোয়ালিফায়ার পর্যায়ে সফলতা অর্জন করে দলটি ২০২৭ বিশ্বকাপের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হবে।



