নোয়াখালীর উপকুলীয় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নলেরচর গ্রামে রাত ৩:৩০ টার দিকে সুজন নামের একজন ছাত্রদল নেতার বাড়িতে দরজার বাইরে তালা লাগিয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে বাড়ির কাঠামো ও মূল্যবান সামগ্রী সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়।
ঘটনাস্থলটি নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-নাট্য বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসিন আলী সুজনের পিতার বাসস্থান। পিতার নাম মো. বেলাল মিয়া, যিনি ঘটনাকালীন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না, ফলে শারীরিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পান।
বিনাশের পর বাড়ির ভেতরে থাকা সব জিনিসপত্র ধ্বংস হয়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়ির দরজায় তালা লাগিয়ে আগুন জ্বালানো হয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে আক্রমণকারীরা প্রবেশের পথ বন্ধ রেখে দূর থেকে কাজ সম্পন্ন করেছে।
ইয়াসিন আলী সুজন জানান, তিনি সম্প্রতি প্রকল্প বাজারে ভোট দেওয়ার সময় এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঐ অভিযোগ মিথ্যা এবং এ কারণেই সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে এই আক্রমণ চালায়।
হাতিয়া উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর থেকে এই অঞ্চলে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটছে এবং বর্তমান অগ্নিকাণ্ডও ঐ প্রবণতার অংশ। তিনি স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
হাতিয়া থানার ওয়্যার্ড অফিসার মো. সাইফুল আলম জানান, ঘটনাবলির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তিনি বলেন, বাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজীদের সনাক্ত করার জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, অগ্নিকাণ্ডের সময় কোনো সশস্ত্র সংঘর্ষ বা তৎক্ষণাৎ কোনো ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না, ফলে আক্রমণকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। তদন্তের অংশ হিসেবে নিকটস্থ এলাকার নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য সাক্ষী ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিবৃতি নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি জানান। বর্তমানে তদন্তাধীন প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হলে, তারা আইনের আওতায় আনা হবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ফলাফল ও আদালতের রায়ের অপেক্ষা চলমান। স্থানীয় আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, অগ্নিকাণ্ডের সাথে যুক্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি শীতল রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার কথা জানিয়েছে।
অবশেষে, নোয়াখালীর এই অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।



