আজ শপথ গ্রহণের পর আহসান খান চৌধুরী নতুন সরকারকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে বললেন, ক্যাবিনেটের গঠন তরুণ, অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত এবং সরকারের উদ্দেশ্য যদি সৎ থাকে তবে তা যথেষ্ট হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারকে এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে যা জনগণকে অর্থনীতির সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
ক্যাবিনেটের মধ্যে বিভিন্ন বয়সের প্রতিনিধি থাকায় নীতি নির্ধারণে বৈচিত্র্য আসবে বলে তিনি আশাবাদী। তদুপরি, তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার যদি সৎ ইচ্ছা নিয়ে কাজ করে তবে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আহসান খান চৌধুরী উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক সুবিধা যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। তিনি জোর দেন, বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যবসার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা উচিত।
বৈশ্বিক ও দেশীয় বিনিয়োগের হ্রাস, আমদানি হ্রাস, বেকারত্বের বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্যের উত্থানকে বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন। এসব সমস্যার সমাধানে বৃহৎ পরিসরের নিয়ন্ত্রণমুক্তি প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অতএব, সরকারকে স্থানীয় ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগকে উত্সাহিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নও অপরিহার্য বলে তিনি বলেন।
আহসান খান চৌধুরী বলেন, দেশের কর্মীরা হোক দেশীয় হোক বিদেশী, তাদের জীবনের মান উন্নত করা উচিত। এ জন্য অর্থনৈতিক নীতি এমনভাবে গড়ে তোলা দরকার যা সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে।
রমজান মাসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, কোনো বড় বাধা দেখা দেবে না এবং সরকার দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবে। তিনি নিশ্চিত করেন, দেশের সিংহভাগ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর অবসান ঘটিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
বিনিয়োগের পতন, আমদানি হ্রাস এবং বেকারত্বের বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ধীরগতি বৃদ্ধিকে তিনি সমালোচনা করেন। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে বড় পরিসরের নিয়ম শিথিলকরণ প্রয়োজনীয় বলে তিনি জোর দেন।
আহসান খান চৌধুরী উল্লেখ করেন, সরকার স্থানীয় ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগকে আকর্ষণ করে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং দক্ষ কর্মশক্তি গড়ে তুলবে। এতে করে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং জনগণের আয় বৃদ্ধি পাবে।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (আহসান খান চৌধুরী) সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব নয়।
বিভিন্ন মতামত ও পথের পার্থক্য থাকতে পারে, তবে দেশের মঙ্গলের জন্য সবাইকে একসাথে থাকতে হবে, এটাই তার শেষ বার্তা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত সরকার সঠিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট যে, নতুন ক্যাবিনেটের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে কেন্দ্রীভূত। ভবিষ্যতে এই দিকনির্দেশনা রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



