মালাওয়ির প্রধান শহর ব্ল্যান্টায়ারের নিকটবর্তী রোডব্লকে শবযাত্রা গাড়ি থামানো হয়, যেখানে খালি কফিনের নিচে কাঠকয়লার ব্যাগ লুকিয়ে পাওয়া যায়। এই গাড়িতে মোট প্রায় ত্রিশটি ব্যাগ, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১,৭০০ ডলার, এবং গাড়ি চালকসহ নয়জন সন্দেহভাজী গ্রেফতার হয়।
বন বিভাগে কাজ করা এক কর্মকর্তা জানান, এই ঘটনার জটিলতা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবৈধ কাঠকয়লা পাচার মামলায় পরিণত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শবযাত্রা গাড়িটি চিকওয়া জেলায়, ব্ল্যান্টায়ার থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে, রুট চেকপয়েন্টে আটক করা হয়।
ফিউনারাল সার্ভিসের একজন ব্যবস্থাপক ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, গাড়ির চালক একটি শোকাহত পরিবারের কাছে কফিন পৌঁছে দেওয়ার কাজ শেষ করে ফিরে আসার পথে কাঠকয়লা কেনেন। সেই সময় গাড়িতে অন্য কোনো যাত্রী ছিল না এবং কফিনটি খালি অবস্থায় ছিল।
ব্যবস্থাপকের মতে, চালককে দুইটি কফিন নিয়ে পরিবারে পাঠানো হয়, যাতে তারা পছন্দের কফিন বেছে নিতে পারে। পছন্দের কফিন নেওয়ার পর অবশিষ্ট খালি কফিন নিয়ে গাড়ি ফিরে আসার পথে চালক ১১টি কাঠকয়লার ব্যাগ কিনে নেন। এই ব্যাগগুলোই পরে গাড়ির তলায় কফিনের নিচে লুকিয়ে পাওয়া যায়।
পুলিশের মুখপাত্র জানান, গ্রেফতারকৃত নয়জন সন্দেহভাজী এখনও পলায়ন করেছে এবং এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। গ্রেফতারকৃতদের সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক করা হয়, তবে তারা পালিয়ে গিয়ে গাড়িটিও ছেড়ে চলে যায়।
বন বিভাগে আরেকজন কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধ বনসম্পদ ধারণ এবং তা পরিবহন করার দুইটি আইনি ধারা প্রয়োগ করা হবে। দণ্ডের সীমা পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা হতে পারে।
মালাওয়িতে কাঠকয়লা পাচার ব্যাপক এবং রান্নার জ্বালানির চাহিদা বাড়ার ফলে এই অবৈধ ব্যবসা দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। কাঠকয়লা চুরি ও অবৈধ বিক্রয় দেশের বনভূমি ধ্বংসের প্রধান কারণগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
অধিক তদন্তের জন্য পুলিশ জনসাধারণকে সহায়তা করার আহ্বান জানায় এবং সন্দেহভাজীদের সনাক্তকরণে তথ্য প্রদান করতে অনুরোধ করে। বর্তমানে গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে এবং চেকপয়েন্টে প্রমাণ সংগ্রহ চালু রয়েছে।
এই মামলাটি দেশের অবৈধ কাঠকয়লা বাণিজ্যের বিস্তৃতি এবং তার পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত তদন্ত চালিয়ে সন্দেহভাজীদের গ্রেফতার করে আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।



