ডেনিস ওয়াইজ, ইংরেজি ফুটবলের প্রাক্তন মিডফিল্ডার, তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো নিয়ে কথা বলছেন। তিনি উইম্বলডনের ‘ক্রেজি গ্যাং’ যুগ, চেলসিতে তার সময় এবং ইউরোপীয় ম্যাচে মিলওয়ালের গোলের কথা স্মরণে তুলে ধরেছেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি কোচ ডেভ বেসেট, ভিনি জোন্স, গাস পয়েট, টেরি ভেনাবলস এবং লুকা ভিয়ালির প্রভাবের ওপর আলোকপাত করেছেন।
যুবক অবস্থায় ওয়াইজকে প্রায়ই তার দক্ষতা নিয়ে সন্দেহ করা হতো, তবে উইম্বলডনের দায়িত্বশীল ম্যানেজার ডেভ বেসেট তাকে সুযোগ দিয়ে তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেন। বেসেটের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি তাকে দ্রুত দলের মূল খেলোয়াড়ে পরিণত করতে সহায়তা করে। তিনি বেসেটের নেতৃত্বে দলকে গঠনমূলকভাবে সাজানোর গুরুত্ব শিখেছেন, যা পরবর্তীতে তার নিজের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বেসেটের অধীনে উইম্বলডন দীর্ঘ থ্রো ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষাকে বিভ্রান্ত করত। ভিনি জোন্সের শক্তিশালী থ্রো এবং গাস পয়েটের পার্কে অনানুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ সেশনগুলো দলকে অতিরিক্ত বলের সুবিধা দেয়। এই পদ্ধতিতে দ্বিতীয় বল সংগ্রহ করে দ্রুত গোলের সুযোগ তৈরি করা হতো, যা দলকে প্রতিপক্ষের তুলনায় সংখ্যাগতভাবে এগিয়ে রাখত।
১৯৮৮ সালের এফএ কাপ ফাইনালে, উইম্বলডন লিভারপুলকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করে। বেসেটের সংগঠনমূলক কৌশল, খেলোয়াড়দের ইচ্ছাশক্তি এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অপ্রত্যাশিত জয় অর্জিত হয়। এই জয়টি দেখিয়েছে যে সেরা খেলোয়াড় না থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা ও দৃঢ়সংকল্প দিয়ে বড় ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
বেসেটের শিক্ষার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল দলের সমন্বয় ও মনোভাব। তিনি দলকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে সীমিত সম্পদে সর্বোচ্চ ফলাফল বের করা যায়। এই নীতি ডেনিসের পরবর্তী ক্লাবগুলোতেও প্রয়োগ হয়, যেখানে তিনি দলকে সংগঠিত করে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করেন।
ডেনিসের ক্যারিয়ারে আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ কোচ ছিলেন টেরি ভেনাবলস, যিনি তাকে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। ভেনাবলসের শিক্ষাগত পদ্ধতি এবং বিভিন্ন সিস্টেমের ব্যাখ্যা তার ট্যাকটিক্যাল বোধকে সমৃদ্ধ করে। কোচের এই পদ্ধতি ডেনিসকে মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং বিভিন্ন কৌশলগত পরিবর্তন গ্রহণে সহায়তা করে।
চেলসিতে লুকা ভিয়ালির সঙ্গে কাজ করার সময়, ডেনিস ভিয়ালির ব্যক্তিত্ব এবং গেমের বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশংসা করেন। ভিয়ালি দলের গঠন এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের ভূমিকা নির্ধারণে সূক্ষ্মতা দেখিয়েছিলেন, যা ডেনিসকে তার নিজের খেলা উন্নত করতে প্রেরণা দেয়। চেলসিতে তার সময়ে তিনি ক্লাবের আক্রমণাত্মক শৈলীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
মিলওয়ালের সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ডেনিসের গোলও উল্লেখযোগ্য। তিনি ইউরোপীয় ম্যাচে স্কোর করে দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি এনে দেন। এই অভিজ্ঞতা তার আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতে বড় ক্লাবগুলোতে তার স্থান নিশ্চিত করে।
ডেনিস ওয়াইজের মতে, ‘ক্রেজি গ্যাং’ের স্মৃতি আজও তার হৃদয়ে জীবন্ত। তিনি বলেন, সেই সময়ের কঠোর প্রশিক্ষণ, সৃজনশীল থ্রো এবং দলগত ঐক্য আজকের ফুটবলে অনুকরণীয়। ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা এই ঐতিহ্য থেকে শিখে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারে।



