বাংলাদেশের দুইটি প্রধান ক্রীড়া শাখার সাবেক জাতীয় অধিনায়ক একসাথে একই দলে যোগ দিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সদ্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়া ফুটবলের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন আমিনুল হককে শুভেচ্ছা জানাতে একত্রিত হন।
জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা‑১৬ আসন থেকে পরাজিত হলেও, টেকনোক্র্যাট কোটার মাধ্যমে আমিনুল হককে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তার নতুন পদে নিযুক্তি সম্পর্কে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তার নেতৃত্ব দেশের ক্রীড়া পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।
বিবিসি প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, ফুটবলের সাবেক অধিনায়কের অভিজ্ঞতা ক্রীড়া প্রশাসনের উচ্চপদে আসা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে যুক্ত দক্ষতা এখন ক্রীড়া নীতি গঠনে কাজে লাগবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমিনুল হকের মতো বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের নিয়োগ দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি ক্রীড়াবিদদের বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও আকাঙ্ক্ষা সরাসরি জানেন, ফলে নীতি প্রণয়নে বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারবেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তার ক্যারিয়ারের সমৃদ্ধি বিভিন্ন শাখার ক্রীড়া উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
প্রেস রিলিজে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আরেকটি মন্তব্যে বলা হয়েছে, “নতুন প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য ধারাবাহিক অগ্রগতি ও সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ক্রীড়া নীতি গঠনে সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং সব স্তরে ক্রীড়া প্রচারকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অধিনায়কের ক্যারিয়ারের দিক থেকে, আমিনুল হককে দেশের সর্বকালের সেরা গোলকিপারদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৯০‑এর মাঝামাঝি সময়ে তিনি ফুটবলের মাঠে পা রাখেন এবং দ্রুতই প্রজন্মের সেরা গোলকিপার হিসেবে স্বীকৃতি পান। তার দুই দশকের বেশি ক্যারিয়ারে ফরাশগঞ্জ, আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা সহ দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলেছেন। একসময় তিনি দেশের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ফুটবলার ছিলেন।
জাতীয় দলের গোলকিপার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০৬ সালের সাউদার্ন আফ্রিকান গেমস (SAF) স্বর্ণপদক জেতার দলেও তিনি ছিলেন, এবং ২০১০ সালের দক্ষিণ এশিয়া গেমস (SAG) তে সোনার জয়লাভে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। এই অর্জনগুলো তার ক্রীড়া জীবনের শীর্ষ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন সক্রিয় ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দেশের ক্রীড়া নীতি ও প্রশাসনে খেলোয়াড়ের দৃষ্টিভঙ্গি সংযোজনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। আরিফ খান নামের আরেকজন প্রাক্তন ফুটবলারও একই সময়ে ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, তবে তার ভূমিকা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।
সর্বশেষে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, নতুন প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য ধারাবাহিক অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। এই সহযোগিতা দেশের ক্রীড়া কাঠামোকে শক্তিশালী করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করবে।



