বাংলাদেশ পার্লামেন্ট সাংবাদিক সমিতি (BPJA) আজ ১৩তম জাতীয় সংসদের নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশে আরোপিত সীমাবদ্ধতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। সমিতির সভাপতি হারুন জামিল ও সাধারণ সম্পাদক শাওকাত আলি খান লিথো একত্রে জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে মিডিয়া ও সংসদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।
BPJA একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, শপথ অনুষ্ঠানের জন্য মিডিয়ার প্রবেশাধিকার হঠাৎ এবং অযৌক্তিকভাবে সীমিত করা হয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের পেছনে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে, সাংবাদিকদের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েটের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার অদক্ষতা, অভিজ্ঞতার অভাব এবং স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের ফলাফল। সমিতি দাবি করে, এমন সিদ্ধান্তের ফলে সংসদের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
BPJA নেতারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে, পূর্বে যেভাবে সাংবাদিকদের মূল অনুষ্ঠানের বাইরে নির্দিষ্ট এলাকা ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হতো, সেই প্রথা পুনরায় চালু করার অনুরোধ করেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, এই ব্যবস্থা সাংবাদিকদের কাজের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে অপরিহার্য।
সমিতি এছাড়াও দাবি করে, পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েটকে বৈধ পরিচয়পত্রধারী সাংবাদিকদের জন্য অন্তত মূল ভেন্যুর আশেপাশে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। তারা উল্লেখ করে, এই ধরনের অনুমোদন না দিলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে এবং জনগণের তথ্যপ্রাপ্তি সীমিত হবে।
কিছু সময়ের মধ্যে সেক্রেটারিয়েট থেকে আশ্বাস প্রদান করা হয়েছিল যে, সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে BPJA জানায়, এই আশ্বাসের পরেও কোনো বাস্তবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, ফলে সাংবাদিকরা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেনি।
শপথ অনুষ্ঠানে মিডিয়া প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায়, সাংবাদিকরা সরাসরি ঘটনাস্থল থেকে প্রতিবেদন করতে পারেনি। ফলে, নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের মুহূর্তগুলো জনসাধারণের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
BPJA এই পরিস্থিতিকে “গভীরভাবে অনুতপ্ত” বলে বর্ণনা করেছে এবং উল্লেখ করেছে, এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মিডিয়া স্বায়ত্তশাসনের জন্য ক্ষতিকর একটি ঘটনা।
সমিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়ে, এই ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করে। তারা জোর দিয়ে বলেন, পার্লামেন্ট ও মিডিয়ার মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দেশের তথ্যপ্রাপ্তি ও গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
অবশেষে BPJA উল্লেখ করেছে, ভবিষ্যতে এমন কোনো সীমাবদ্ধতা আর না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রক্রিয়া গঠন করা উচিত। তারা আশা প্রকাশ করেছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে, সাংবাদিকদের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ পুনরুদ্ধার করবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, মিডিয়া প্রবেশের এই বাধা পার্লামেন্টের স্বচ্ছতা ও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে BPJA এর দৃঢ় অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে মিডিয়া-সংসদ সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



