মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালীকে লক্ষ্য করে হুমকি ও বিস্ফোরণ ঘটেছে। রাত্রি ১১টা অর্ধেকের পরে ঢালীর বাড়ির সামনে অজানা বস্তু থেকে তীব্র শব্দ শোনা যায়, যা সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ও পুলিশকে সতর্ক করে।
হুমকি চিঠিতে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে মৃত্যুর হুমকি জানানো হয়। চিঠি ও কাপড় দুটোই ঢালীর বাড়ির সামনে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায়। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনো প্রতিক্রিয়া না করা হয় তবে আরও ক্ষতি করা হবে।
বিস্ফোরণ ঘটার মুহূর্তে ঢালীর বাড়ির আশেপাশে ধোঁয়া ও ধ্বংসের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো প্রতিবেশীরা তৎক্ষণাৎ পুলিশকে জানায়। ঢালী জানান, তিনি হঠাৎ শোনানো গর্জন শোনার পর তৎক্ষণাৎ প্রতিবেশী ও নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি জানিয়েছেন, তবে কে বা কী উদ্দেশ্যে এই কাজটি করেছে তা তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
মতলব উত্তর থানা থেকে আসা এএসআই মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বোমা সদৃশ দুটি বস্তু এবং কাফনের কাপড়সহ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
শিকারের অবস্থান থেকে জানা যায়, মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালীই ওই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। হুমকি ও বিস্ফোরণের পর তিনি থানায় একটি জিডি (জামিনদারী) দাখিল করেন। তিনি বলেন, হুমকি ও বিস্ফোরণের ফলে পুরো গ্রামেই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং অনেক বাসিন্দা রাত্রিকালেও ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।
স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটির পর থেকে গৃহস্থালির আলো নিভে যাওয়া, দরজা-জানালার লক করা এবং রাতের সময় বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু পরিবার নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত গেট ও সিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মতলব উত্তর থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বোমা সদৃশ বস্তু ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য তদন্ত চালু রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে তদন্ত দল ফোরেনসিক বিশ্লেষণ, সিআইডি এবং স্থানীয় সাক্ষ্য সংগ্রহের মাধ্যমে হুমকির উৎস ও বিস্ফোরণের পেছনের কারণ উন্মোচনের চেষ্টা করছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী, যদি কোনো সন্দেহভাজন চিহ্নিত হয় তবে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।



