কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খ্যাবার পাখতুনখুয়া প্রদেশে একাধিক সশস্ত্র হামলা ঘটেছে। দুইটি বোমা বিস্ফোরণ এবং একটি গুলিবর্ষণ মিলিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ জন সদস্য এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে এক শিশুও অন্তর্ভুক্ত, নিহত হয়েছে। ঘটনাগুলি দেশের আফগানিস্তান সীমান্তের নিকটবর্তী অঞ্চলে বাড়তে থাকা বিদ্রোহী কার্যকলাপের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।
বাজাউর জেলায় একটি ধর্মীয় কলেজের প্রাচীরে আত্মঘাতী বোমা গাড়ি আঘাত করে বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই স্থানে উপস্থিত আটজন পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কর্পস কর্মী নিহত এবং দশজন অন্যজন আহত হয়। বোমা বিস্ফোরণের ফলে কাছাকাছি কয়েকটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে, যার মধ্যে একটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নিরাপত্তা কর্মী, তবে বেসামরিক আহতদেরও সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে আহতদের তৎক্ষণাৎ ভর্তি করা হয় এবং গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তদের জন্য জরুরি শল্যচিকিৎসা চালু করা হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, শিকারের সংখ্যা বাড়তে পারে, তাই অতিরিক্ত চিকিৎসা সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বন্নু শহরের মিরিয়ান পুলিশ স্টেশনের কাছে রিকশায় বসানো বোমা ফাটে, ফলে দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং সতেরজন আহত হয়। রিকশা ছিল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পার্ক করা, যেখানে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটায় আশেপাশের দোকান ও গৃহস্থালীর জানালায় ক্ষতি হয়। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শক ও ধ্বংসাত্মক আঘাতের শিকার, যাদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
শাংলা জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অনুসন্ধান অভিযানের সময় তিনজন পুলিশ কর্মী ও তিনজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়। গুলিবর্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা দলগুলি এলাকায় বিস্তৃত অনুসন্ধান চালিয়ে গিয়েছিল। নিহত সন্ত্রাসীরা পূর্বে চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত আক্রমণে জড়িত বলে জানানো হয়েছে।
খ্যাবার পাখতুনখুয়া প্রদেশের পুলিশ বিবৃতি অনুযায়ী, শাংলা জেলায় নিহত সন্ত্রাসীরা চীনা প্রকল্পে কাজ করা কর্মীদের ওপর আক্রমণ পরিকল্পনা করছিল। চীনের বিশাল বিনিয়োগে চালু হওয়া অবকাঠামো প্রকল্পগুলো স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে, যা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আক্রমণের পটভূমি গঠন করে।
এই সপ্তাহের শুরুর দিকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গ্রুপের দায়িত্বে একটি বিশাল আত্মঘাতী বোমা হামলা ঘটেছিল, যা রাজধানী ইসলামাবাদে শিয়া মসজিদকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল। ওই হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জন আহত হয়। আইএসের এই দায়িত্ব স্বীকারের পর থেকে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী উত্তেজনা মোকাবিলায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে দক্ষিণ ও উত্তরের সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। চীনা নাগরিক ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে করা আক্রমণগুলো বিশেষভাবে সংবেদনশীল, যার ফলে নিরাপত্তা সংস্থা অতিরিক্ত গার্ড ও নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাজাউর, বন্নু ও শাংলা জেলায় ঘটিত এই তিনটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিভাগগুলো তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠানো হয়েছে, বিস্ফোরণের ধরণ ও ব্যবহৃত সামগ্রী বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে একই ধরনের আক্রমণ রোধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। এছাড়া, চীনা প্রকল্পে কাজ করা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সুরক্ষা দল গঠন করা হবে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে অসন্তোষের মূল কারণগুলো সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এই সিরিজের হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা ও বহুমুখী হুমকির প্রতিফলন। সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত সম্পদ ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।



