শনিবার ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা-১৫ (মিরপুর‑কাফরুল) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী গণসংযোগে বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নির্বাচনের মৌলিক স্বভাব সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নির্বাচন একটি ভদ্র প্রক্রিয়া। এটা জনগণের রায়ের বিষয়। রায় জোর করে আদায় করা যায় না।” এই উক্তি নির্বাচনের স্বেচ্ছাচারিতা ও গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি তার দৃঢ় বিশ্বাসকে প্রকাশ করে।
এরপর তিনি উল্লেখ করেন, যারা নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের প্রতি জনগণের ক্ষমা না পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ নির্বাচনকে দেশের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হিসেবে তুলে ধরেন এবং এ লক্ষ্যে জাতি একত্রে কাজ করা দরকার বলে জোর দেন।
পুলিশের সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা যমুনায় একটি দাবি নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তাদের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।” এরপর তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “আমি ঢাকার বাইরে ছিলাম। তারা হয়ত আশ্বাসটার ডেলিভারিটা আরও তাড়াতাড়ি চেয়েছিল।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে একটি অতিরিক্ত উৎসাহী ব্যক্তি ভূমিকা রেখেছেন, যা তিনি “ভালোভাবে দেখছি না” বলে সমালোচনা করেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকল নাগরিককে সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং নাগরিকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, “আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে, সবাইকে তা যথাযথভাবে পালন করা উচিত।”
গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিষদ সদস্য ডা. মোবারক হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। এ ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও কাফরুল অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ্, এনসিপির যুবশক্তির মিরপুর থানার আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির কাফরুল পশ্চিম থানা আমির ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল মতিন, কাফরুল পশ্চিম থানা সেক্রেটারি আতিক রায়হান এবং ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমানসহ ১১ দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে শুরু হয়ে সমাবেশটি বসুন্ধরা মোড়, খেজুরতলা মোড়, মাইকওয়ালা মসজিদ অতিক্রম করে ৬০ ফিট বারেক মোল্লার মোড়ে সমাপ্ত হয়। রাস্তায় উপস্থিত সমর্থকরা উল্লাসের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের গুরুত্ব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য ও গণসংযোগের আয়োজন দেশের আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়। তিনি যে শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম ও নাগরিকদের আচরণ কিভাবে সমন্বিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের স্থিতিশীলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



