দিল্লি থেকে বিশেষ ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফ্লাইটে ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকায় অবতরণ করেন। তারা নতুন গঠিত বাংলাদেশের সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে দেশভ্রমণে এসেছেন। এই সফরটি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার শপথের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মো. নজরুল ইসলাম উভয়কে স্বাগত জানিয়ে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান। স্বাগত অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ, যিনি বর্তমানে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ সরকারের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, উপস্থিত ছিলেন।
বিক্রম মিশ্রি এবং ওম বিড়লা দুজনেই ঢাকায় তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেছিলেন, নতুন বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার শপথে অংশগ্রহণ এবং দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করা। উভয়েই উল্লেখ করেছেন যে, এই সফরটি দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, যিনি মালদ্বীপ সরকারকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি এবং তার দল বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভার শপথে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে চান।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও তার প্রতিনিধিদলও শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ভুটান এবং বাংলাদেশ উভয়ই দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, তাই এই উপস্থিতি পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল, যিনি পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক দায়িত্বে আছেন, শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তার উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর আঞ্চলিক সংহতি ও উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা সকলেই শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এই বৈচিত্র্যময় আন্তর্জাতিক উপস্থিতি নতুন বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সমর্থনকে দৃঢ় করে।
যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা এবং তুরস্কের আন্ডার সেক্রেটারি বেরিস একিনচি দুজনেই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের অংশগ্রহণ দক্ষিণ এশিয়ার বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রসারকে নির্দেশ করে।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল বিদেশি প্রতিনিধিরা নতুন বাংলাদেশের নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণে আলোচনা করেছেন।
এই সফরটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক কর্মকর্তার সরাসরি সাক্ষাৎ ভবিষ্যতে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সংস্কৃতিক বিনিময়কে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শপথ অনুষ্ঠানের পর ওম বিড়লা এবং বিক্রম মিশ্রি ঢাকা শহরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সফর করবেন, যেখানে দু’দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। এই সফরটি দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপকে আরও গভীর করার লক্ষ্যে পরিচালিত হবে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার শপথে আন্তর্জাতিক নেতাদের উপস্থিতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উচ্চ-প্রোফাইল সফরগুলো দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



