সিলেট থেকে ময়মনসিংহের পথে যাত্রা করা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সৈয়দনগর গ্রাম থেকে গাড়ি চালিয়ে গিয়ে ৬৫ বছর বয়সী হাসিনা বেগম ও ৪৮ বছর বয়সী তার পুত্র আমজাদ হোসেন নিহত হয়। দুর্ঘটনা ঘটেছে দুপুরের প্রায় বারোটায়, সরাইলের শাহবাজপুর প্রথম গেটের কাছাকাছি, যেখানে গাড়ি ও বাস বিপরীত দিক থেকে একে অপরের দিকে এগিয়ে আসছিল।
হাসিনা বেগম ও আমজাদ হোসেন গাড়ি চালিয়ে একটি আত্মীয়ের বাড়িতে সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে তাদের সঙ্গে কয়েকজন পরিবারিক সদস্য ছিলেন, যার মধ্যে আমজাদের ১২ বছর বয়সী পুত্র চাঁদ ও ২৫ বছর বয়সী হৃদয়, এবং গ্রামবাসী নিলুফা (৩৬) অন্তর্ভুক্ত।
বসের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার পর গাড়ির সব যাত্রীই আঘাত পায়। আহতদের দ্রুতই স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে মা ও ছেলের মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডিউটি ডাক্তারের মতে, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল। একজনের বুকে চাপে ধরা পড়ে, তাই তাকে পর্যবেক্ষণরত রাখা হয়েছে; আরেকজনের কপালে ছোটখাটো কাটা রয়েছে, যা তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
পুলিশের সরাইলের খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা থেকে ওসিরা জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, বাসের চালক ও তার সহকারী ধাক্কা ঘটার পর গাড়ি থেকে দ্রুত সরে গিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে গাড়ি ও বাসের গতি, সিগন্যাল লঙ্ঘন এবং রোডের অবস্থা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক আইন অনুযায়ী, অপরাধমূলক দায়িত্ব প্রয়োগের জন্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
দুর্ঘটনা ঘটার সময় গাড়ি চালক আমজাদ হোসেন নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং তিনি ও তার পরিবারিক সদস্যরা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছিলেন। বাসটি সিলেট থেকে ময়মনসিংহের পথে চলছিল, যা একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই মা ও ছেলের মৃত্যু নিশ্চিত হয়, আর বাকি তিনজনকে তীব্র পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পুলিশের মতে, গাড়ি ও বাসের সংঘর্ষের মূল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়; তবে রোডের দৃশ্যমানতা, গতি সীমা এবং ড্রাইভারের সতর্কতা ইত্যাদি বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় রয়েছে।
অধিক তদন্তের অংশ হিসেবে, ট্রাফিক ক্যামেরা রেকর্ড, গাড়ি ও বাসের ড্রাইভারের রক্ত পরীক্ষা এবং গাড়ির টায়ার ও ব্রেকের অবস্থা বিশ্লেষণ করা হবে। ফলাফল অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে একই রকম দুর্ঘটনা রোধে রোড সুরক্ষা ও ট্রাফিক নিয়মের কঠোর প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোর দেওয়া হচ্ছে।



