জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজায় আজ বিকেল প্রায় ৪:১৫টায় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের শপথ গ্রহণে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শপথ গ্রহণ করেন। শপথের মাধ্যমে তিনি সরকার গঠনের দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন এবং দেশের শীর্ষ নির্বাহী পদে অধিষ্ঠিত হন। এই শপথ অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শপথ গ্রহণের সময় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন শপথগ্রহণকারীকে শপথের শর্তাবলী স্মরণ করিয়ে দেন এবং তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের পরই ২৫জন মন্ত্রী ও ২৪জন স্টেট মন্ত্রীকে একই স্থানে শপথ গ্রহণের সুযোগ প্রদান করেন। মন্ত্রিগণ ও স্টেট মন্ত্রিগণ শপথের সময় জাতীয় গৌরব ও শাসনের নীতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। শপথের পরপরই প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে শপথপত্র গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
মন্ত্রিপরিষদের পোর্টফোলিও আজ বিকেলে বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পোর্টফোলিও বিতরণে কোন মন্ত্রীর কোন দায়িত্বে থাকবে তা নির্ধারণের জন্য সরকারী দপ্তরগুলোকে আজ বিকালের মধ্যে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই পদক্ষেপটি নতুন সরকারের কার্যকরী কাঠামো গঠনের একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শপথের পূর্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিপিএন পার্লামেন্টারি পার্টি সভায় তারেক রহমানকে পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এই নির্বাচনটি পার্লামেন্টে বিপিএন জোটের নেতৃত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয় এবং শপথের পর তারেকের প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণের আইনি ভিত্তি শক্তিশালী করে। পার্লামেন্টারি পার্টি নেতার এই পদবী তাকে সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সহায়তা করবে।
শপথ কক্ষে বিপিএন জোটের সব ২১২টি এমপি, জামাত‑নেতৃত্বাধীন জোটের ৭৬টি এমপি এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত সাতজন এমপি শপথ গ্রহণের জন্য উপস্থিত ছিলেন। শপথের সময় সকল শপথগ্রহণকারী সদস্যই জাতীয় সংবিধানের শপথ গ্রহণের শর্তাবলী মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। শপথগ্রহণের মাধ্যমে সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়েছে।
শপথের পরপরই সরকার গঠনের প্রাথমিক কাজ হিসেবে মন্ত্রিপরিষদের গঠন ও পোর্টফোলিও বণ্টন সম্পন্ন হবে। মন্ত্রিপরিষদের গঠন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নীতি নির্ধারণ, বাজেট প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। নতুন সরকার গঠনের এই ধাপটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতিগুলোর বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের শপথ অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। শপথগ্রহণের মাধ্যমে সরকারী কাঠামো সম্পূর্ণভাবে কার্যকরী অবস্থায় আসবে এবং পরবর্তী সময়ে নীতি নির্ধারণ ও আইন প্রণয়নের কাজ দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার গঠনের এই প্রাথমিক পর্যায়ে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হতে সহায়তা করবে।



