29 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি’র সিনিয়র নেতারা নতুন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ

বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা নতুন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ

বিএনপি’র চেয়ারপার্সন তারিক রাহমানের নেতৃত্বে পার্টি ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন স্টেট মন্ত্রী নামকরণ করার পর, বেশ কিছু উচ্চপদস্থ নেতা মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন। এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বাছাইকৃত মন্ত্রিসভার তালিকায় বেশিরভাগ নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত, তবে স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য হিয়াম আব্বাস, আবদুল ময়ীন খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নাজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, আমানুল্লাহ আমান, বিমল চন্দ্র রায় এবং সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল কবির রিজভি অন্তর্ভুক্ত নয়।

হিয়াম আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান এবং আমানুল্লাহ আমানসহ বেশিরভাগ বাদপ্রাপ্ত নেতা পূর্বে বিএনপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। নাজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবির রিজভি ছাড়া বাকি সবাই অতীতের মন্ত্রিসভায় প্রধান দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, এই বাদ দেওয়া কেবল পার্টির কৌশলগত পুনর্গঠন নয়, নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। পার্টি নেতারা উল্লেখ করেছেন, মন্ত্রিসভার গঠনকে আধুনিকায়ন ও তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাদপ্রাপ্ত নেতাদের সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তকে অপ্রয়োজনীয় ও রাজনৈতিক ত্রুটিপূর্ণ বলে সমালোচনা করেছেন। তারা দাবি করেন, অভিজ্ঞ নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন মুখকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভোটারদের আস্থা ক্ষয় করতে পারে।

বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিতর্কের পাশাপাশি, বিরোধী দলও এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক গণতান্ত্রিকতার সংকেত হিসেবে দেখছে। তারা উল্লেখ করেছে, মন্ত্রিসভা গঠনে স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা উচিত, যাতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

এই মন্ত্রিসভা গঠন প্রক্রিয়ায় পার্টির অভ্যন্তরীণ সমঝোতা ও সমন্বয় কাজের গুরুত্ব বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে, বাদপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে পুনরায় সংলাপের সম্ভাবনা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিএনপি’র নতুন মন্ত্রিসভা গঠনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়েছে। কিছু বিশ্লেষক বলেন, এই পদক্ষেপ পার্টির পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করবে এবং আসন্ন নির্বাচনে নতুন কৌশল প্রয়োগের সুযোগ দেবে।

অন্যদিকে, বাদপ্রাপ্ত নেতাদের সমর্থক গোষ্ঠী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন। তারা দাবি করছেন, অভিজ্ঞতা ও জনসাধারণের স্বীকৃতি বিবেচনা না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া পার্টির ঐতিহাসিক সাফল্যকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

বিএনপি’র নেতৃত্ব এই পরিস্থিতিতে পার্টির ঐক্য রক্ষার জন্য সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে, মন্ত্রিসভা গঠন একটি প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সমন্বয় করা হতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন। তারা বলছেন, বাদপ্রাপ্ত নেতাদের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি না হলে পার্টির অভ্যন্তরে বিভাজন বাড়তে পারে, যা নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠন এবং সিনিয়র নেতাদের বাদ দেওয়া বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ গঠনকে পুনর্গঠন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পার্টি কীভাবে এই পরিবর্তনকে পরিচালনা করবে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments