ইলেকট্রনিক সঙ্গীতশিল্পী ও টেক ক্রিয়েটর লুক মম নো কম্পিউটারকে এই বছরের ভিয়েনা ইউরোভিশন গানে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে বিবিসি ঘোষণা করেছে। তিনি একক শিল্পী, গীতিকার এবং ইউটিউব ক্রিয়েটর, যাকে অনন্য সঙ্গীত যন্ত্রের উদ্ভাবক হিসেবেও পরিচিত করা হয়। এই নির্বাচন দেশের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, শিল্প বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সম্পন্ন হয়েছে।
লুক মম নো কম্পিউটার মূলত ২০১৪ সালে স্যাম ব্যাটল নামে ইন্ডি রক ব্যান্ড জিব্রার ফ্রন্টম্যান হিসেবে সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেন। ২০১৫ সালে গ্লাস্টনবেরিতে বিবিসি ইন্ট্রোডিউসিং শোতে তার দল পারফর্ম করে, যা তার ক্যারিয়ারের প্রথম বড় মঞ্চ ছিল। এরপর থেকে তিনি একক নামের অধীনে সঙ্গীত রচনা ও রেকর্ডিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
একক শিল্পী হিসেবে তিনি নিজস্ব সাউন্ড তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেন, যেখানে তার অনুসারী সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১.৪ মিলিয়ন। এই প্ল্যাটফর্মে তিনি নিজস্ব তৈরি করা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, যেমন ফার্বি খেলনা ও গেম বয় থেকে তৈরি অর্গান, সাইকেলে সংযুক্ত সিন্থেসাইজার এবং আগুন নিক্ষেপকারী কিবোর্ডের ভিডিও শেয়ার করেন। তার সৃষ্টিগুলো প্রযুক্তি ও সঙ্গীতের সীমানা অতিক্রম করে নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
লুক মম নো কম্পিউটার ইউরোভিশনকে “একটি জাদুকরী আনন্দের উৎস” বলে উল্লেখ করে, এই প্রতিযোগিতার প্রতি তার দীর্ঘদিনের ভক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের পতাকা উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া এবং এই ঐতিহ্যের অংশ হওয়ার সুযোগকে সম্মানজনক বলে বিবেচনা করছেন। তার মতে, ইউরোভিশন মঞ্চে তার স্বতন্ত্র সাউন্ড ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নতুন রঙ যোগ করা সম্ভব হবে।
কেন্টের বাসিন্দা এই শিল্পী তার নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে সঙ্গীত রচনা, রেকর্ডিং এবং পারফরম্যান্সের সব দিক নিজ হাতে পরিচালনা করেন। তিনি প্রক্রিয়াটিকে নথিভুক্ত করে ইউটিউবে প্রকাশ করেন, যা ভক্তদের জন্য সৃষ্টির পেছনের গল্প উন্মোচন করে। তার কাজের মূল লক্ষ্য হল প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতাকে একত্রে মিশিয়ে অপ্রচলিত সাউন্ড তৈরি করা।
ইউরোভিশন পারফরম্যান্সের প্রস্তুতি হিসেবে তিনি তার সর্বোচ্চ সৃজনশীলতা মঞ্চে আনতে প্রস্তুত, এবং দর্শকদের জন্য অপ্রত্যাশিত ভিজ্যুয়াল ও অডিও অভিজ্ঞতা তৈরি করার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি আশাবাদী যে ইউরোভিশন মঞ্চ তার “সিন্থেসাইজড” ধারণা গ্রহণ করবে এবং নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে সঙ্গীতের সম্ভাবনা দেখাবে।
বিবিসি যুক্তরাজ্যের ইউরোভিশন এন্ট্রি নির্বাচন করার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে, যেখানে শিল্প ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই পদ্ধতি পূর্বে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী গায়ক ও ব্যান্ডের নির্বাচনেও প্রয়োগ করা হয়েছে।
বিবিসির বিনোদন প্রধান কাল্পনা প্যাটেল-নাইট, যিনি এই নির্বাচনের পেছনের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেছেন, তিনি বলেছেন যে লুক মম নো কম্পিউটারের সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি, স্বতন্ত্র সাউন্ড এবং বৈদ্যুতিক পারফরম্যান্স শৈলী তাকে অবিস্মরণীয় শিল্পী করে তুলেছে। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউরোভিশন মঞ্চে সৃজনশীলতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং স্বতন্ত্র ব্রিটিশ রসিকতা প্রদর্শনের জন্য এই নির্বাচনকে যথার্থ বলে উল্লেখ করেছেন।
লুক মম নো কম্পিউটার ইউরোভিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সঙ্গীত সংস্কৃতির নতুন দিক উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার অনন্য যন্ত্রপাতি ও ডিজিটাল সাউন্ডের সমন্বয় আন্তর্জাতিক দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে এবং ইউরোভিশনের ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর মধ্যে নতুন রঙ যোগ করবে।
এই নির্বাচন দেশের সৃজনশীল শিল্পীদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করেছে, যেখানে প্রযুক্তি ও সঙ্গীতের সমন্বয়কে মূলধারার মঞ্চে উপস্থাপন করা সম্ভব। লুক মম নো কম্পিউটার তার সৃষ্টিশীলতা ও উদ্ভাবনী মনোভাব দিয়ে ইউরোভিশনের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।



