১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, সংসদ ভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ সম্পন্ন হয়। ২৫ মন্ত্রী এবং ২৪ প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার মতামত প্রকাশ করেন।
রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, পূর্বের তিনটি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করার ফলে সংসদকে একতরফা বলা হতো। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় একই ধরণের সমালোচনা পুনরায় দেখা দিতে পারে।
তিনি ভোটার অংশগ্রহণের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ মানুষের ভোট না আসা হলে সংসদে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা কঠিন হবে। এই দিক থেকে তিনি বর্তমান সংসদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিজয়ী দলকে তিনি অভিনন্দন জানিয়ে, তবে প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি দূর না হওয়া পর্যন্ত সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে বলে পরামর্শ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংসদে বসতে হলে সর্বজনীন অংশগ্রহণের ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে।
রুমিন ফারহানা আরও জানান, বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তিনি এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে তুলে নেওয়া যাবে তা স্পষ্টভাবে বলতে পারছেন না, তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে নির্বাচনী সুযোগ পুনরায় প্রদান করা হলে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে উত্তর দিতে পারবে।
তিনি ভোটারদের ব্যালটের প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ভোটারদের পুনরায় ভোটের সুযোগ দেওয়া উচিত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্বে ড. খলিলুর রহমান নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছিলেন এবং এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।
ড. খলিলুর রহমান পূর্বে রোহিঙ্গা বিষয়ের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই অভিজ্ঞতা নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৯৭৭ সালে প্রথম নিয়মিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জন করার পর তিনি ১৯৯৭ সালে কূটনৈতিক সার্ভিসে যোগ দেন। একই বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।
১৯৮০‑১৯৮৩ সময়কালে তিনি টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল অব ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে অধ্যয়ন করেন। সেখান থেকে তিনি ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি-তে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষা জীবনের শুরুতে তিনি ১৯৬৯ সালে ঢাকা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা সহ ছয়টি বিষয়ে লেটার মার্কসহ উত্তীর্ণ হন। ১৯৭০ সালে তিনি কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার আসরের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।
ড. খলিলুর রহমান ১৯৮৩ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্বের দায়িত্বে ছিলেন। এই সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
নতুন মন্ত্রিসভার গঠন বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি নতুন দিক নির্দেশ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পরিবর্তন বিশেষত রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন কৌশল নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
রুমিন ফারহানার ভোট অংশগ্রহণের ওপর জোর দেওয়া মন্তব্যগুলো সংসদীয় সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়ানোর দাবিকে তীব্র করে তুলবে।
সারসংক্ষেপে, ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সরকার নতুন নীতি ও কূটনৈতিক দিকনির্দেশনা গড়ে তুলতে প্রস্তুত, যেখানে ভোটার প্রতিনিধিত্ব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রশ্নগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।



