মন্ত্রিপরিষদ সচিবের তত্ত্বাবধানে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিগণকে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দুই শতাধিক সরকারি কর্মী উপস্থিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে প্রটোকল, অতিথি স্বাগত, শপথ ফোল্ডার ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কাজের জন্য সহায়তা প্রদান করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার দুইশো অতিথি উপস্থিত থাকবে। এই বৃহৎ সমাবেশে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সমর্থন জানাতে মোট ২১১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রদত্ত তালিকায় ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও প্রটোকল অফিসারসহ ছয়জনকে সরাসরি মন্ত্রীদের প্রটোকল কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে; বাকি ২০৫ জন প্রশাসনিক ক্যাডারের সদস্য, যাঁদের মূল কাজ হল অতিথি স্বাগত, ফোল্ডার প্রস্তুতি ও অনুষ্ঠানিক সহায়তা।
সচিবালয়ে এই ব্যাপারে বিভিন্ন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। কিছু কর্মী বলছেন, নতুন মন্ত্রীদের কাছে ভেড়াতে এই অতিরিক্ত কর্মী ব্যবস্থা একটি নতুন কৌশল। অন্যদিকে, কেউ কেউ এই সংখ্যার পেছনে কোনো গোপন উদ্দেশ্য আছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
একজন অতিরিক্ত সচিবের মন্তব্যে দেখা যায়, “অতীতে অনেক শপথ অনুষ্ঠান হয়েছে, এত কর্মকর্তা যেতে দেখিনি, এবার নেওয়ার কারণ বুঝতেছি না।” তিনি অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগকে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, শপথ অনুষ্ঠানে তাদের মতো অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল।
একজন যুগ্ম সচিবের মতে, “এখানে বাছাই করে পছন্দের অফিসারদের নেওয়া হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ডিসি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালন করেছেন এমনদেরও স্থান দেওয়া হয়েছে।” তিনি এই নিয়োগকে রাজনৈতিক ভিত্তিক বলে সমালোচনা করেছেন।
সরকার গঠন ও রাষ্ট্রাচার অধিশাখার উপসচিব এ. এস. এম. ইবনুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ২১১ জনের তালিকা সংযুক্ত করে জানিয়েছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিগণকে পৃথকভাবে প্রটোকল প্রদান, অতিথি স্বাগত, শপথের ফোল্ডার ব্যবস্থাপনা ও শপথ গ্রহণের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগীয় কমিশনার অফিসের কর্মী/কর্মচারীকে দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত হতে হবে।
তালিকায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চারজন অতিরিক্ত সচিব, পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত। এই সমন্বয়কে সরকারী প্রোটোকল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, বৃহৎ সংখ্যক কর্মকর্তা নিয়োগের ফলে শপথ অনুষ্ঠানের খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং জনসাধারণের মধ্যে সরকারী ব্যয় সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের মানবসম্পদ বণ্টন সরকারকে তার কর্মীসংখ্যা বাড়িয়ে রাজনৈতিক সমর্থন জোরদার করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি হলে সরকারী প্রশাসনের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা বাড়বে।
সংক্ষেপে, শপথ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সহায়তায় ২১১ জন কর্মকর্তা উপস্থিত হওয়া একটি নতুন প্রোটোকল ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা সরকারী অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সমালোচনার মুখে রয়েছে।



