বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কক্সবাজার‑১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে শপথের পর মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণের যে অটল সমর্থন পেয়েছে, তা পূরণে দল সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শপথ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার প্রায় ১২:৩০ টায় সংসদ ভবনের ভিতরে অনুষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতা তৎক্ষণাৎ শুরু হয়। এতে তিনি দলীয় অবস্থান ও আসন্ন কাজের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করেন।
আহমদ জোর দিয়ে বলেন, জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে নির্ধারিত সব অঙ্গীকার সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য সরকার গঠনের পরই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ এখন সব বিষয়ের আলোচনার মূল কেন্দ্র হয়ে উঠবে। পূর্বে যেখানে কেবলমাত্র একটি বিন্দু হিসেবে বিবেচিত হতো, এখন তা কেন্দ্রীয় বিন্দুতে রূপান্তরিত হবে।
আহমদের মতে, সংসদ জনগণের মতামতকে সরাসরি প্রতিফলিত করবে এবং দেশের নীতি নির্ধারণে প্রধান মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, নতুন ধারায় রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে সংসদই প্রধান প্ল্যাটফর্ম হবে।
প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে চুক্তির প্রতিটি ধাপকে অগ্রসর করার পরিকল্পনা তিনি তুলে ধরেন। এ সব প্রক্রিয়া সংসদের আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, এটাই তার দৃঢ় বিশ্বাস।
জুলাই চুক্তি, যা ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতার ফলস্বরূপ স্বাক্ষরিত, তাতে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিএনপি এই চুক্তিকে বাধ্যতামূলক দলিল হিসেবে গণ্য করে এবং তার সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন দাবি করে।
আহমদ জোর দিয়ে বলেন, দল চুক্তির প্রতিটি ধারা অনুসরণে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেবে এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। তিনি বলেন, এই চুক্তি না মানলে রাজনৈতিক বিরোধের সম্ভাবনা থাকবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারকে কেবল শব্দে নয়, কাজের মাধ্যমে চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। এ জন্য দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য, তিনি বলেন।
বিএনপি এই দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারকে সতর্ক করে যে, চুক্তির কোনো ধাপ অবহেলিত হলে দলীয় প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপ বাড়বে। তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, দল শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ়ভাবে তার অধিকার রক্ষা করবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার এই চুক্তি সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট মন্তব্য প্রকাশ করেনি। সরকারী পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, আসন্ন সংসদীয় সেশন এই চুক্তির বাস্তবায়ন পরীক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ সময় হবে। এই সেশন দেশের আইনগত ও নীতিগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি আশা করে, চুক্তি পূরণে সফলতা তাদের সমর্থনভিত্তি শক্তিশালী করবে এবং নীতি নির্ধারণে প্রভাব বাড়াবে। বিশেষ করে শাসনব্যবস্থা, উন্নয়ন ও জনসেবা ক্ষেত্রে দলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে সক্ষম করবে।
অন্যদিকে, যদি চুক্তির অঙ্গীকারগুলো পূরণে ব্যর্থতা দেখা দেয়, তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে অর্জিত ভোটার আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে। এটি দলীয় ভবিষ্যৎ কৌশল ও নির্বাচনী সম্ভাবনার উপর প্রভাব ফেলবে।
আলাপ শেষের দিকে আহমদ সকল রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিক নীতি মেনে চলতে এবং সংসদকে জাতীয় সিদ্ধান্তের হৃদয় হিসেবে কাজ করতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এভাবেই দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।



