ইতালির কোর্টিনা দ্য্যাম্পেজে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকের কার্লিং রিঙ্কে ৬১ বছর বয়সী স্কটিশ আইস টেকনিশিয়ান মার্ক কল্যানকে পিছনের দিকে হেঁটে, পানির ছিটা দিয়ে বরফকে পেভিং করার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ভিডিওতে সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জনপ্রিয়তা পায়। নরওয়ের এক সম্প্রচারকও তাকে “সকেটিং” করে বর্ণনা করে, যা দর্শকদের হাসি এনে দেয়।
মার্ক কল্যান গ্লাসগোরের বাসিন্দা, বর্তমানে কপেনহেগেনে তার সঙ্গী ও দুই বছর বয়সী শিশুর সঙ্গে বসবাস করছেন। তিনি বিশ্ব কার্লিং সংস্থার প্রধান বরফ প্রযুক্তিবিদ হিসেবে কাজ করেন এবং পূর্বে তিনটি শীতকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অলিম্পিকের সময় তিনি রিঙ্কের প্রায় খালি শিটে ব্যাকপ্যাক ও হোস নিয়ে কাজ করছিলেন, যেখানে পানির ছিটা দিয়ে বরফের পৃষ্ঠে ছোট ছোট গুঁড়ি (পেভিং) তৈরি করা হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, কল্যান শিটের মাঝখানে হেসে-হেসে পিছনের দিকে হেঁটে চলছেন, যা তার কাজের স্বাভাবিক অংশ হলেও দর্শকদের কাছে অদ্ভুত ও মজার লাগল। কিছু ক্লিপে তার চলাচলকে সঙ্গীতের সঙ্গে মেলিয়ে রিদমিক ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, আর অন্যদিকে কিছু পারোডি ভিডিওতে তার নড়াচড়া অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছে। এই সবই তাকে সামাজিক মাধ্যমে এক মুহূর্তের সেলিব্রিটি করে তুলেছে।
কল্যানের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, সবাই তার এই অদ্ভুত কাজ দেখে হাসছে এবং মন্তব্যে আনন্দ পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি এই কঠিন সময়ে আমার কাজের কারণে কেউ হাসে, তবে তা আমার জন্য যথেষ্ট পুরস্কার।” তার মতে, তিনি শুধুমাত্র তার দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোনো অতিরিক্ত কিছু করার দরকার নেই।
তার ক্যারিয়ারের শুরুর গল্পও আকর্ষণীয়। স্কটল্যান্ডের এবারফয়লে অবস্থিত ফরেস্ট হিলস রিঙ্কে তিনি টেলিভিশনে কার্লিং দেখার পর প্রথমবারের মতো এই খেলায় আগ্রহী হন। যদিও সেই রিঙ্ক এখন আর নেই, তবে তিনি সেই সময়ের বহুবার পড়ে যাওয়ার স্মৃতি এখনও তাজা রাখেন। পরবর্তীতে তিনি আবার রিঙ্কে ফিরে যান এবং একদিন বরফ পেভিং কাজকারী কর্মীকে দেখেন, যার সঙ্গে কথা বলে তিনি এই কাজ শিখে নেন এবং আজকের অবস্থানে পৌঁছান।
মার্ক কল্যানের কাজের মূল উদ্দেশ্য হল রিঙ্কের বরফকে সমান ও মসৃণ রাখা, যাতে খেলোয়াড়রা সঠিকভাবে শট নিতে পারে। পেভিং প্রক্রিয়ায় পানির ছিটা দিয়ে বরফের পৃষ্ঠে ছোট গুঁড়ি তৈরি করা হয়, যা পরে রোলার দিয়ে সমান করা হয়। এই কাজটি সূক্ষ্মতা ও ধৈর্য প্রয়োজন, এবং কল্যানের অভিজ্ঞতা তাকে এই দায়িত্বে পারদর্শী করে তুলেছে।
কোর্টিনা দ্যাম্পেজে তার কাজের সময়, রিঙ্কের বেশিরভাগ অংশ শূন্য ছিল, ফলে তার চলাচল আরও স্পষ্টভাবে ক্যামেরায় ধরা পড়ে। কিছু দর্শক তাকে “মুনওয়াকিং আইস টেকনিশিয়ান” বলে উপহাস করে, যা তার কাজের প্রতি নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। তবে তিনি এই মন্তব্যকে হালকা ভাবে গ্রহণ করে বলেন, “এটি শুধু আমার কাজের একটি অংশ, আর যদি এটি মানুষকে হাসায়, তবে তা ভালোই।”
মার্ক কল্যানের এই মুহূর্তটি শীতকালীন অলিম্পিকের অন্যান্য বড় ঘটনাগুলোর তুলনায় ছোট হতে পারে, তবে সামাজিক মাধ্যমে এর প্রভাব বড়। তার ভিডিওগুলো বিভিন্ন ভাষায় শেয়ার হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। এই ধরনের অপ্রত্যাশিত দৃশ্যগুলো ক্রীড়া ইভেন্টকে আরও মানবিক ও মজাদার করে তুলতে সাহায্য করে।
অলিম্পিকের পরবর্তী দিনগুলোতে কল্যান আবার রিঙ্কের বরফ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকবেন, এবং তিনি আশা করছেন যে তার কাজের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে কোনো বাধা না আসবে। তার অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও তরুণ আইস টেকনিশিয়ানদের জন্য উদাহরণস্বরূপ থাকবে।



