শীত অলিম্পিকের কার্লিং ইভেন্টে কানাডিয়ান দলকে ডাবল‑টাচের অভিযোগের মুখে দাঁড়াতে হয়েছে। স্বিডিশ খেলোয়াড় ওস্কার এরিকসন মার্ক কেনেডির ওপর এই অভিযোগ তুলেন, এবং পরের দিন নারী দলের ক্যাপ্টেন রেচেল হোলম্যানের ওপর একই অভিযোগ আসে। উভয় খেলোয়াড়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং নিজেদের খেলা ন্যায়সঙ্গত বলে দাবি করেন।
মার্ক কেনেডি, যিনি কানাডার পুরুষ দলকে প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, স্বিডেনের অভিযোগের পর ম্যাচের মধ্যে তীব্র রাগ প্রকাশ করেন এবং তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি পরে উল্লেখ করেন যে তাদের দলকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দ্বারা পরিকল্পিত আক্রমণের শিকার হতে পারে। এই মন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভিডিওতে দেখা যায় যে তিনি কখনও কখনও পাথরের সঙ্গে স্পর্শ করতে পারেন।
রেচেল হোলম্যানের ওপরও একই ধরনের ডাবল‑টাচের অভিযোগ উঠে। তিনি এই অভিযোগের পরেও দৃঢ়ভাবে বলেন যে তিনি কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেননি এবং তার দলকে ন্যায়সঙ্গতভাবে খেলতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষের প্রত্যাখ্যানের পরেও ভক্ত ও বিশ্লেষকরা কানাডিয়ান দলের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকে।
কানাডা ঐতিহাসিকভাবে কার্লিং খেলায় শীর্ষে থাকলেও এই ঘটনা তাদের সুনামকে আঘাত করেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভক্তরা এখন দলের স্পিরিট ও নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা করছেন। কিছু ভক্তের মতে, জয় অর্জনের জন্য অতিরিক্ত কিছু করা ঠিক নয়, বিশেষ করে যখন তা খেলায় ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করে।
একজন আলবার্টা বাসিন্দা বললেন, “কানাডিয়ান ক্রীড়ার জন্য এটি দুঃখজনক দিন।” তিনি যোগ করেন যে খেলায় সততা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি নিজেরাই যদি ভুল করে তাও তা স্বীকার করা দরকার। এই মন্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে।
একজন বিশ্লেষক লিখেছেন, কানাডিয়ান কার্লিং দল এখন এমন অবস্থায় রয়েছে যেন জয় পেতে সবকিছুই করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন যে দলটি এখন এমন একটি চিত্র উপস্থাপন করছে যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে হ্রাস করে নিজের সাফল্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি কিছু ভক্তের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষক আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সহজ উপায় হল সমস্যাকে স্বীকার করা এবং অতিরিক্ত প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবকে ত্যাগ করা।” তিনি জোর দেন যে দেশের সুনাম ও ক্রীড়া নীতি একসাথে বজায় রাখা উচিত, এবং যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে তবে তা সংশোধন করা জরুরি।
বিরোধের মূল সূচনা হয় শুক্রবার, যখন ওস্কার এরিকসন মার্ক কেনেডির ওপর ডাবল‑টাচের অভিযোগ তোলেন। দুজন খেলোয়াড়ের মধ্যে তীব্র কথোপকথন শুরু হয়, যেখানে উভয়ই তীব্র শব্দ ব্যবহার করেন। এই দৃশ্যের ভিডিও দ্রুত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
বিশ্ব কার্লিং সংস্থা এই ঘটনার পর মার্ক কেনেডিকে মৌখিক সতর্কবার্তা প্রদান করে। সংস্থা উল্লেখ করে যে নিয়ম লঙ্ঘনের সম্ভাবনা থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে বর্তমানে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই সতর্কবার্তা দলের ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়িয়ে দেয়।
কানাডিয়ান দলের কোচ ও স্টাফের মতে, তারা সবসময় নিয়ম মেনে খেলা চালিয়ে এসেছে এবং এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে বিবেচনা করে। তারা জোর দিয়ে বলেন যে দলটি সঠিক কৌশল ও ন্যায়সঙ্গত খেলায় জয় অর্জন করতে চায়। তবে ভক্তদের কাছ থেকে আসা সমালোচনা ও প্রশ্নের মুখে দলকে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে।
পরবর্তী ম্যাচে কানাডিয়ান পুরুষ দলকে সুইডেনের বিপক্ষে আবারও খেলতে হবে, যেখানে একই ধরনের অভিযোগ পুনরায় উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নারী দলও একই সময়ে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। উভয় দলই এই ম্যাচগুলোকে নিজেদের সুনাম পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে দেখছে।
সারসংক্ষেপে, শীত অলিম্পিকে কানাডিয়ান কার্লিং দলকে ডাবল‑টাচের অভিযোগের মুখে দাঁড়াতে হয়েছে, যা দলের নৈতিকতা ও ক্রীড়া স্পিরিট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। উভয় পক্ষই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে বিশ্ব কার্লিং সংস্থা থেকে সতর্কবার্তা পাওয়া গেছে এবং ভক্তদের কাছ থেকে সমালোচনা বাড়ছে। দলটি এখন পরবর্তী ম্যাচে নিজের সুনাম পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করবে।



