সিরাজগঞ্জের দুইজন সংসদ সদস্যকে সরকারী মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিসভায় অংশগ্রহণের জন্য ফোন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে, প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের পূর্বে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং তার ভাগ্নে এম এ মুহিতকে মন্ত্রিসভায় যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
টুকু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সিরাজগঞ্জ‑২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, তার ব্যক্তিগত সহকারী মোস্তফা আলাল নোমানের মাধ্যমে ফোনের তথ্য নিশ্চিত করেন। টুকু ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এবার তৃতীয়বারের মত সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ‑৬ (শাহজাদপুর) আসনের এম এ মুহিত, প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পূর্বে আরশাদ সরকারের উপ‑প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী, চক্ষু বিশেষজ্ঞ এম এ মতিনের পুত্র। দলীয় নেতাকর্মীরা জানাচ্ছেন, টুকু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী পদে দায়িত্ব পেতে পারেন, আর মুহিত টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে মনোনীত হতে পারেন।
মঙ্গলবারের মধ্যাহ্নে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী সদস্যরা ইতিমধ্যে শপথ নিয়েছেন। বিকেলে তরিক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেবে, যার মধ্যে টুকু ও মুহিতের মন্ত্রিসভা যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে। সিরাজগঞ্জ থেকে একাধিক ব্যক্তি পূর্বে মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হলেও, এইবার প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদে দুজনই নিযুক্ত হতে পারেন।
সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার পর সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুরের বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী, দলীয় কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকরা ফেসবুকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন। তারা টুকু ও মুহিতের নতুন দায়িত্বের জন্য গর্ব প্রকাশ করে, পাশাপাশি নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা সম্পর্কে আশাবাদী মন্তব্য করেন।
দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়, টুকু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা বেশি, যা দেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও জ্বালানি নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মুহিতের ক্ষেত্রে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে নিযুক্তি হলে, ডিজিটাল সেবা ও নেটওয়ার্ক উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
এই পদবিন্যাসের ফলে সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। দুজনের একসঙ্গে মন্ত্রিসভায় যোগদান পারিবারিক ও পার্টি ভিত্তিক সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকারী নীতি ও জনসেবা দিক থেকে প্রত্যাশা রয়েছে, যাতে নতুন মন্ত্রিগণ তাদের দায়িত্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন।
সারসংক্ষেপে, সিরাজগঞ্জের ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও এম এ মুহিতকে মন্ত্রিসভায় যোগদানের জন্য সরকারী কল পাওয়া গেছে, এবং উভয়কে যথাক্রমে বিদ্যুৎ‑জ্বালানি মন্ত্রী ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী পদে মনোনীত করার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন সরকার শীঘ্রই শপথ নেবে, এবং দুজনের মন্ত্রিসভা যোগদান দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।



