নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি চলাকালে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, যিনি কারাবন্দি, প্যারোল না পেয়ে শপথ নিতে পারেননি। সংসদ সচিবালয় থেকে শপথের অনুমোদন চিঠি পাঠানো সত্ত্বেও, তার মুক্তি না হওয়ায় শপথের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হয়। কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ মোতাহের হোসেনের মতে, টুকুকে প্যারোল না দেওয়ার মূল কারণ আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা।
সংসদ সচিবালয় থেকে টুকুর শপথের অনুমোদন চিঠি পাওয়ার পর, তিনি সরকার ব্যবস্থা করলে শপথ নিতে রাজি জানান। তবে প্যারোল না হওয়ায় তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারেননি, ফলে শপথের অনুষ্ঠানটি অগ্রসর করা সম্ভব হয়নি।
মহাপরিদর্শক হোসেনের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, “প্যারোল দিলে আইনশৃঙ্খলা হ্রাস পেতে পারে” – এ কারণেই টুকুকে প্যারোল প্রদান করা হয়নি। তিনি আরও জানিয়েছেন, সরকার যদি ব্যবস্থা করে, টুকু শপথ নিতে ইচ্ছুক ছিলেন।
টুকুর গ্রেপ্তার ১৪ আগস্ট রাতেই ঘটেছে, যখন চব্বিশের আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই তাকে নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকায় ধরা পড়ে। সেই সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর পল্টনে এক রিকশা চালকের হত্যার মামলায় তাকে জড়িয়ে নেওয়া হয়।
মামলাটি রিকশা চালকের হত্যার সঙ্গে যুক্ত, যা কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল। টুকু সেই সময় থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং এখনও আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান।
সরকার পতনের পর দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়। তিনি বর্তমানে প্রকাশ্যে নেই, ফলে ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের শপথের দায়িত্ব কে নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার টুকু এবং স্পিকার শিরীন শারমিনের উভয়েরই আইনি বাধা শপথের সময়সূচি জটিল করে তুলেছে। সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয় না হওয়ায় শপথের অনুষ্ঠানটি বিলম্বিত হয়।
অবশেষে, মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ.এম.এম. নাসির উদ্দিন শপথের বাক্য পাঠ করেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদের নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।
শপথের অনুষ্ঠানটি সিইসি দ্বারা পরিচালিত হওয়ায়, সংসদীয় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে ডেপুটি স্পিকার টুকুর প্যারোল সংক্রান্ত বিষয়টি এখনও আদালতে চলমান, যা ভবিষ্যতে সংসদীয় কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে এবং টুকুর প্যারোল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অপেক্ষা করা হচ্ছে।
শপথের দেরি এবং আইনি জটিলতা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সংসদীয় স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, তবে সরকার এ মুহূর্তে শপথের অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অগ্রসর।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, টুকুর প্যারোল অনুমোদন বা তার আইনি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি সংসদীয় কার্যক্রমের স্বাভাবিক প্রবাহে কী প্রভাব ফেলবে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।



