১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, জাতীয় সংসদ ভবনের শপথগ্রহণ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব শুরু করেন। একই দিনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়। এই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিক নির্দেশ করে।
শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান সকাল ১১ টার কাছাকাছি শুরু হয়, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন শপথবাক্য পাঠ করান। সংসদ ভবনের শপথগ্রহণ কক্ষটি ঐতিহাসিক গুরুত্বের সঙ্গে সজ্জিত ছিল, এবং উপস্থিত সকল প্রতিনিধিরা শপথবাক্য উচ্চস্বরে উচ্চারণের পর শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন।
প্রথমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান, যেখানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের প্রতিনিধিরা শপথ গ্রহণের পর একত্রে জাতীয় গর্বের প্রকাশ করেন।
এরপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সদস্য, স্বাধীন (স্বতন্ত্র) সংসদ সদস্য এবং অন্যান্য দলীয় প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে শপথবাক্য গ্রহণ করেন। প্রতিটি দলের প্রতিনিধিরা শপথের পর একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নতুন সংসদীয় কাজের সূচনা করেন।
শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছিলেন এবং এখন দেশের বৈদেশিক নীতি পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। এই পদোন্নতি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
ড. খলিলুর রহমান ১৯৭৯ সালে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন এবং তার কর্মজীবনের শুরুর দিকে দক্ষিণ এশিয়া বিভাগ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবের পদে দায়িত্ব পালন করেন। সিভিল সার্ভিসে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জ্ঞান তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে উপযুক্ত করে তুলেছে।
ড. খলিলুর রহমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আজ বিকেল ৪ টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান নির্ধারিত হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভার গঠন এবং শপথ গ্রহণের সময়সূচি দেশের শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ড. খলিলুর রহমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়িত্বে আসা দেশের বৈদেশিক সম্পর্কের দিকনির্দেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে। তাছাড়া, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারী কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে এই দুই ঘটনার সমন্বয় দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে।



