দ্বাদশজন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যাপ্টেন, যার মধ্যে ভারতের কিংবদন্তি সূনিল গাভাস্কার ও কাপিল দেব অন্তর্ভুক্ত, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সরকারকে ইমরান খানকে মানবিকভাবে আচরণ করার জন্য একত্রে আবেদন জানিয়েছেন। এই আবেদনটি একটি যৌথ বিবৃতি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে, যা কয়েকটি নির্বাচিত মিডিয়া আউটলেট, যার মধ্যে ক্রিকেট সংবাদ সাইট ক্রিকবাজও রয়েছে, তে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইমরান খান, যিনি ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী করিয়ে ছিলেন, বর্তমানে পাকিস্তানের একটি কারাগারে আটক আছেন। তার স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, ফলে তার পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
যৌথ বিবৃতিতে ক্যাপ্টেনরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, খানের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা, বাসস্থানের পরিবেশ এবং সামাজিক মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তারা সরকারকে নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষা, সুষম আহার এবং মৌলিক মানবাধিকারের পূর্ণাঙ্গ রক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, খানের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য তার পরিবার ও আইনগত প্রতিনিধিদের সঙ্গে শেয়ার করা উচিত, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং অনাবশ্যক অনুমান এড়ানো যায়। এই ধরনের তথ্যের অভাবের ফলে গৃহীত সিদ্ধান্তের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
সূনিল গাভাস্কার, যিনি ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আইকন এবং পূর্বে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, ক্রীড়া মানসিকতা সীমানা অতিক্রম করে এবং মানবিক উদ্বেগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাজনৈতিক পার্থক্যকে পেছনে রেখে মানবিক দিকটি বিবেচনা করা উচিত।
কাপিল দেব, আরেকজন ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি, একইভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট সম্প্রদায় একসাথে হয়ে একটি প্রাক্তন ক্যাপ্টেনের ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, এই ধরনের সমবায় উদ্যোগ ক্রীড়া জগতের ঐক্য ও সহানুভূতির প্রতিফলন।
এই যৌথ আবেদনটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায়ের বিস্তৃত অনুভূতি প্রকাশ করে যে, জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রাক্তন খেলোয়াড়দের একে অপরের কল্যাণের জন্য দায়িত্ববোধ থাকা উচিত। তারা একত্রে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চায় যে, কারাবাসের সময়েও মৌলিক মানবিক অধিকার লঙ্ঘন করা উচিত নয়।
বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের রায়ের উল্লেখ করা হয়নি, তবে এটি স্পষ্ট করে যে, কারাবাসের শর্তে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের রক্ষা অপরিহার্য। এই নীতি অনুসরণ না করা হলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার দৃষ্টিতে প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে।
রিপোর্টিংয়ের সময় পর্যন্ত পাকিস্তানি সরকার থেকে এই আবেদন সম্পর্কে কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারী পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট উত্তর না থাকায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইমরান খানের বর্তমান আইনি সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক উথাল-পাথাল দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ক্যাপ্টেনদের সমর্থন একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্রিকেট জগতের বিভিন্ন কোণ থেকে এই বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে, এবং আশা করা হচ্ছে যে, সরকার দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে খানের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মানবিক আবেদনগুলোকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রদায়ের সুনাম বজায় রাখবে।



