30 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলনে ধোঁকাবাজি মাইক্রোফোনের ঘটনা

ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলনে ধোঁকাবাজি মাইক্রোফোনের ঘটনা

অশিক চৌধুরী ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে মাইক্রোফোনের ত্রুটি দেখিয়ে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক দায়িত্বশীল ও স্থানীয় ব্যবসায়িক নেতাদের সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত ছিল। চৌধুরীর উদ্দেশ্য ছিল সেশনের শুরুর মুহূর্তে একটি নাট্যগত প্রভাব তৈরি করা।

প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগের পর চৌধুরী জানিয়ে দেন যে মাইক্রোফোনের ত্রুটি ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “প্রযুক্তিগত বাধা না থাকলে কোনো সেশনই সময়ের অপচয়।” এই মন্তব্যের সঙ্গে তিনি উপস্থিতিদের উষ্ণতা বাড়ানোর জন্য এই কৌশলটি ব্যবহার করেছেন বলে ব্যাখ্যা করেন।

দর্শকসভার মধ্যে বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধি, দেশীয় শিল্পপতি এবং ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসসহ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। মাইক্রোফোনের ত্রুটি প্রকাশের পর ঘরটি হালকা হাসি ও স্বস্তির শ্বাসে ভরে ওঠে, এবং ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসও হাস্যরসাত্মকভাবে প্রতিক্রিয়া জানান।

চৌধুরী এরপর ২০৩৫ সালের বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করেন, যেখানে দেশটি হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সংযোগকারী সেতু হিসেবে কাজ করবে। তিনি ১৯৮৫ সালের ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’ চলচ্চিত্রের দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করে ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। এই কল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী দশম বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলনে দেশটি পূর্ব ও পশ্চিমের সমন্বয়কে উদযাপন করবে।

প্রেজেন্টেশনের সময় চৌধুরী ২০২৪ সালের প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী নাগরিকদের সেলফি এবং ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসকে “নোবেল পুরস্কারধারীকে বিনিয়োগকারীদের কাছে ছুঁড়ে দেওয়া” মত রূপক ব্যবহার করে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি এই রূপককে বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার করার উপায় হিসেবে উল্লেখ করেন।

অশিক চৌধুরী একজন অভিজ্ঞ স্কাইডাইভার এবং পূর্বে ব্যাংকিং খাতে কাজ করেছেন, ফলে তিনি দেশের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দৃশ্যমান মুখগুলোর একটি হয়ে উঠেছেন। তার উপস্থাপনা শৈলী উচ্চশক্তি ও নাট্যগত উপাদানে পরিপূর্ণ, যা তার পূর্ববর্তী কর্মকালীন অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।

উপস্থাপনার পর দর্শকদের তালি থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চৌধুরীর আশাবাদী ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তব অর্থনৈতিক অবস্থা মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ এখনও উন্নয়নশীল ডেল্টা দেশ হিসেবে পরিচিত, এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা বাকি।

বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মূলধনের প্রবাহ বাড়ানো, তবে চৌধুরীর নাট্যিক উপস্থাপনা কিছু অংশে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে, বাস্তবিক অর্থনৈতিক সূচক ও নীতি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের স্থায়িত্বে প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, অশিক চৌধুরীর মঞ্চে মাইক্রোফোনের ইচ্ছাকৃত ত্রুটি এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি বিনিয়োগ পরিবেশে একধরনের মনোযোগ আকর্ষণকারী ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা জোর দিয়ে বলেন যে, বাস্তবিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নীতি বাস্তবায়ন ছাড়া উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে না।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি ও বাজারের প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে রূপক ও বাস্তবতার সমন্বয়ই মূল চাবিকাঠি হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments